তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ফেরারি আসাসি হিসেবে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তারেকের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। 2আজ (বুধবার) একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। রিটে বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমকে। তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করার নির্দেশনা চেয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা। তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন সানজিদা খানম এমপি। রিট আবেদনে ভবিষ্যতে কোনো পত্রিকা, ইলেট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুনঃউৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।  অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রিটে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, মর্মে রুলও চাওয়া হয়।1 রিটে বলা হয়, ফেরারি তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা অপরাধমূলক কথা বলছেন। যা দণ্ডবিধি অনুসারেও অপরাধ। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শান্তিভঙ্গ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটকারী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা সাংবাদিকদের বলেন, “একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এ রিটটি দায়ের করেছি।“ বুধবার লন্ডন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনকারীদের দমনের পাশাপাশি সরকার মিডিয়াকেও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। সত্য খবর প্রকাশে বাধা দেয়া হচ্ছে। সত্য প্রচারের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ইটিভি’র চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে। কোনো কোনো মিডিয়াকে সরকারের পক্ষে লিখতে বাধ্য করা হচ্ছে। বুধবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম। আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, তারেকের পাসপোর্টের কি অবস্থা, তিনি তার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়িয়েছেন কিনা এবং তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থান কি, তা আদালতকে জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিবকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাহারা খাতুন, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সানজীদা খানম, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: