তারেককে ফিরিয়ে আনতে চিঠি, সরকারের জন্য বুমেরাং!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই সময়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের জন্য বুমেরাং হয়েছে। আর এটা হওয়ার কারণ খোদ সরকার নিজেই। তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার জন্য যে ধরনের প্রক্রিয়া সরকারের অনুসরণ tarequeকরার দরকার ছিল তা করা হয়নি। গ্রাউন্ড ওয়ার্ক না করার কারণেই এই সমস্যা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে বৃটিশ আইন অনুযায়ী কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন ছিল। সেটা না করার কারণে তারেক রহমান আগে ভাগে যে সব কথা বৃটিশ সরকারকে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ছিলেন সেগুলো তারা বিশ্বাস করছে। বিশেষ করে তারেক রহমান লন্ডনে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে থাকার কারণে এতদিন সরকারের কেউ তাদেরকে কোন চিঠি দেয়নি। যখন তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বলেছেন, আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ওই সময়ে চিঠি দেওয়া বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেই করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। যদিও আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক এই ব্যাপারে তিন দফা লন্ডনে গিয়ে বৃটিশ সরকারকে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং এখন তিনি আইনী প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছেন। তা হলেও বৃটিশ সরকার এটাকে রাজনৈতিক হয়রানী মনে করে সাড়া দিতে চাইছে না। ওই চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাওয়ার পর ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকশিনারের সঙ্গে কথা বলেছে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা। তাছাড়া ২০০৭ সালের পর থেকে ঢাকার সব রিপোর্টই তাদের কাছে রয়েছে। সেই সব রিপোর্ট পর্যালোচনা করেও তারেক রহমান ও তার আইনজীবীরা যে সব কথা বলেছেন এর সত্যতা পেয়েছেন। সূত্র জানায়, বৃটিশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠি ইতোমধ্যে বৃটিশ সরকারের হাতেও পৌঁছেছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর তারেক রহমান যতদিন ধরে বৃটিশ সরকারের কাছে তার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন সেটাই সত্য হয়েছে। এই ব্যাপারে সূত্র জানায়, তারেক রহমান ও তার তরফ থেকে আইনজীবীরা বৃটিশ সরকারের কাছে বলে রেখেছিলেন তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এই সরকার তাকে সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বাংলাদেশের আগামি দিনের নেতা হবেন সেটা সরকার সহ্য করতে চাইছে না। এই জন্য তাকে জোরপূর্বক দেশে নিয়ে কারাগারে রেখে আবারও নির্যাতন করা হবে। জোর করে তাকে কঠিন দন্ড দেওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় মিথ্যে আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে। এখন ওই মামলায় তাকে শাস্তি দিয়ে বিচার করবে সরকার। এছাড়াও ব্রিটিশ সরকারকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তিনি ২০০৪ সাল থেকে আইনী লড়াই করে যাচ্ছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত যত অভিযোগ তোলা হয়েছে এর কোন সত্যতা নেই। সূত্র জানায়, তারেক রহমান বৃটিশ সরকারকে জানিয়েছেন তার দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট যখন ক্ষমতায়, তার মা যখন প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে তিনি রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখতেন। এই জন্য তার হাওয়া ভবন নামে আলাদা কার্যালয়ও ছিল। সেখানে কাজ হতো। কিন্তু ওই সময়ে বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ওই ভবনকে জড়িয়ে নানা মিথ্যাচার করেন এবং আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন। এই জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কেউ এর সত্যতা প্রকাশ করতে পারেনি। এটাও বলেছেন সরকার বিরোধি ওই সময়ের মিডিয়াগুলো আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে ওই সময়ে বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় ও তার অফিসের ব্যাপারে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করার কারণে তিনি তাকে উকিল নোটিশ দেন। ওই উকিল নোটিশ তিনি গ্রহণ করেননি। সূত্র জানায়, তারেক রহমান ওই নোটিশ দিয়ে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন আপনি এটা গ্রহণ করুন বিরোধি দলের নেত্রী আপনি সম্মানিত মানুষ। আপনি প্রমাণ করুন দুর্নীতির বিষয়টি। কবে কোথায় কত টাকা গেছে। কিন্তু ওই সময়ে শেখ হাসিনা উকিল নোটিশটি গ্রহণ করেননি। সূত্র জানায়, তিনি আরো জানিয়েছেন বৃটিশ সরকারের কাছে যখন থেকে তিনি তার মায়ের সহযোগী হিসাবে দলের হাল ধরেছেন তখন থেকে তার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী তৎপর হয়ে ওঠে। আর এই কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে হয়রানী করার চেষ্টা হয়েছে। এদিকে সূত্র জানায়, তিনি এটাও জানিয়েছেন তার দল ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেন। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করে কতিপয় সেনা কর্মকর্তা তাদের অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য কয়েকজন সিভিলিয়ানকে সামনে রেখে পেছনে থেকে ক্ষমতা নেন। সব কিছু তারা করেন। তাদের প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। এই জন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসা বশত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও তাকে আটক করে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। একের পর এক মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সরকারের দুই বছরে কোন দিন তারা কোন অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। এরপর ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয় ওয়ান ইলেভেনের সরকার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করে বিদায় নেন। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আবার তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুর্নীতির মামলাগুলো চলতে থাকে। তবে আজ পর্যন্ত একটি দুর্নীতির মামলাও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। এমনকি কোন টাকাও বিদেশ থেকে ফেরত আনতে পারেনি। এদিকে কোন মামলা প্রমাণ করতে না পরার কারণে ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় মামলায়ও তাকে ফাঁসানো হয়। সেটা করে শাস্তি দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত তা করতে পারেনি। এদিকে তিনি এটাও তাদেরকে বলেছেন, এখন তাকে যে কোন একটি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। দেশে আসার পর তার জীবন বিপন্ন হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বৃটিশ সরকারকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে তার বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে সব প্রতিহিংসামূলক। তিনি আরো তুলে ধরেছেন ওয়ান ইলেভেনের সময়ে তার মা বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা করে। তবে ওই সময়ে তার ও তার মায়ের বিরুদ্ধে কোন মামলা প্রমাণ না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জ ফ্রেম হয়নি। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলায় সেটা হয়েছিল। এক ব্যবসায়ী চেকে টাকা দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি পরে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তার সব মামলা তুলে নেন। কিন্তু আমার ও আমার মায়ের বিরুদ্ধে সব মামলা রয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালেও যে সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে তারাও মামলা চালিয়ে রাখে। এর আগে তার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলায় কোন প্রমাণ না পেয়ে বিচারক খালাস দেন। সেটা দেওয়ার পর ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। পরে তাকে প্রাণের ভয়ে দেশ ছাড়তে হয়। সূত্র জানায়, তারেক রহমান বিচার ব্যবস্থা নিয়েও সেখানে জানিয়েছেন। একজন বিচারপতি একটি কথা বলার পর তাকে নিয়ে সংসদে যে ঘটনা ঘটেছিল ওই ঘটনাটি জানিয়েছেন। ওই সময়ে দুই জন সিনিয়র সংসদ সদস্য সংসদে কি বলেছিলেন, সেই সময়ের সেই ভিডিও চিত্রটি বৃটিশ সরকারের কাছে দিয়ে এটা জানিয়েছেন যেখানে একজন বিচারকের বিরুদ্ধে সংসদে নানা কথা বলার পরও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর দুর্নীতির মামলায় একজন বিচারক আমাকে খালাস দেওয়ার কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। এই উদাহরণ দিয়ে তিনি পুরো বিষয়টি অবহিত করার চেষ্টা করেছেন। সূত্র জানায়, তিনি এটাও ওই দেশের সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এখন তিনি এই সরকারের জন্য হুমকি। সরকার মনে করছে আগামী দিনে তিনিই হবেন বাংলাদেশের নেতা। এই কারণে সরকার তাকে ভয় পাচেছ। যে কোন মূল্যে তাকে থামিয়ে দিতে চাইছে। আর এই জন্য তার বিরুদ্ধে নানা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব বইয়ের কপি থেকে বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো উল্লেখ করে এটাও বলেছেন তিনি নিজে কোন তথ্য তৈরি করে উপস্থাপন করেননি বাংলাদেশে যে সব বই প্রচলিত আছে ওই সব বই থেকে কেবল উদ্ধৃতি দিয়েছেন এতেই সরকার তাকে দেশে নিতে চাইছে। ইতোমধ্যে এই কারণে তার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা হয়েছে। ওই মামলার নম্বর, ও বিস্তারিত জানিয়ে সেগুলোর কপি দেওয়া হয়েছে। যেসব মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী হচ্ছে সেগুলোও দিয়েছেন। সূত্র জানায়, সরকারের ব্যাপারে আরো বিভিন্ন বিষয় তিনি বৃটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন। তাকে ফেরত নেওয়ার এর আগে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তাদেরকেও তিনি এই সব বিষয়গুলো জানিয়েছিলেন। সূত্র জানায়, তারেক রহমান যখন দেশে আন্দোলন শুরু করেন, এই সংক্রান্ত বক্তব্য দিলে ঠিক তার পরই সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য চিঠি দিয়েছে। ওই সময়ে তার মা ছিলেন অবরুদ্ধ। সরকার তাকে তালা দিয়ে রেখেছিল। বৃটিশ সরকারকে বোঝানো হয়েছে তারেক রহমান বাংলাদেশে এতটাই জনপ্রিয় বলে সরকার মনে করে। যেই জন্য সরকার লন্ডনে বসে দেওয়া তার ব্ক্তব্য কোন গণমাধ্যমে প্রচার করতে দিবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি টেলিভিশন তার বক্তব্য প্রচার করেছে বলে সেই টেলিভিশনের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার টেলিভিশনের সম্প্রচার বিশেষ কায়দা করে বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও সেটা দেখা যাচ্ছে না। আবার সরকারি দলের সমর্থক আইনজীবীকে দিয়ে আদালতে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। আদালত সেটা মঞ্জুর করেছে। সেই সঙ্গে এই সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সেটা নিয়ে তার বক্তব্য কোন গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সেই হিসাবে তিনি এখান থেকে কোন বক্তব্য দিলে সেটা প্রচার করতে পারবে না। সরকার ভয় পায় মনে করেই সেটা করছে। এই কারণেই এখন কোন কথা বলতে দিচ্ছে না। এখন তারেক রহমান নিজেও বিষয়টি নিয়ে ওই দেশের সরকারের যারা তার ঘনিষ্ট মন্ত্রী রয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে একটি সূত্র বলেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকার অভিযোগ তুলেছে দুর্নীতির, ষড়যন্ত্র ও গ্রেনেড হামলার বিষয়টি। তবে কোন মামলায় তার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে এমনটি দেখাতে না পারার কারণে বৃটিশ সরকার এখনও তাকে অপরাধী হিসাবে বিবেচনা করছে না। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখার চেষ্টা করছে।
সূত্র : আমাদের সময় .কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*