তারকাদের বিশ্রামে হার বাংলাদেশের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬
ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। কাল একই শহরের আরেক দল সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বিশ্রামে থাকা ক্রিকেটারদের মিছিল আরো লম্বা। ওই দুজনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিগ ব্যাশের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বিসিবি একাদশ নাম নিয়ে খেলা দলের হয়ে মাঠে নামেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদ উল্লাহ ও তাসকিন আহমেদও। আগের ম্যাচে দলের নির্ভরতার প্রতিশব্দ হয়ে যাওয়া দুজনের অনুপস্থিতির প্রভাব উপেক্ষা করে জিতলেও এবার আর তা হয়নি। বিশেষ করে থান্ডারের বিপক্ষে ব্যাটিংয়েই প্রভাবটা পড়েছে সবচেয়ে বেশি। তাই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তোলার পর যা প্রত্যাশিত ছিল, হয়েছেও তা-ই। ২ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের অনায়াস জয় দিয়ে ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিগ ব্যাশের পস্তুতিটাও জমাট হয়েছে এউইন মরগ্যানের নেতৃত্বাধীন সিডনি থান্ডারের । সিডনির স্পটলেস স্টেডিয়ামে মাশরাফি না খেলায় এদিন বিসিবি একাদশের নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর থেকেই অনুতাপে পুড়ে থাকবেন হয়তোবা। কারণ শুরু থেকেই তো কোণঠাসা ছিল তাঁর দল। ২ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৬ রান জমা হতে না হতেই নেই ২ উইকেট। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন থান্ডারের পেস অ্যাটাকের সামনে প্রবল অস্বস্তিতে ভোগা সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানরা সাবলীল ছিলেন না স্পিনারদের বিপক্ষেও। টপ অর্ডারের পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও পরিস্থিতির দাবি মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তেই থাকে। নিজেদের ইনিংসের অর্ধেক পেরোতে না পেরোতেই তাই ৫০ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। ওই অবস্থায় দলের সংগ্রহ একশ পেরোয় কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। সেখান থেকে যে শেষ পর্যন্ত ১২০ পার হওয়া গেছে, এর কৃতিত্ব নুরুল হাসান ও শুভাগত হোম চৌধুরীর। এঁদের সঙ্গে খানিকটা অবদান আছে মূলত লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারেরও। কেউই খুব বড় কোনো ইনিংস খেলেননি তবে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ছোট ছোট পার্টনারশিপে দলের ইনিংসকে ভদ্রস্থ চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

অবশ্য সংগ্রহ যদি ১২২ না হয়ে হতো আরো বড় কিছু, তাহলে লড়াইটাও জমে উঠতে পারত। রুবেল হোসেনের বোলিং কাল সে বার্তাই দিচ্ছিল। আরেক পেসার মোহাম্মদ শহীদের ইনজুরিই তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডগামী দলে সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর প্রতিজ্ঞাই ফুটে উঠছিল তাঁর বোলিংয়ে। ৪৮ রানের সূচনা পেয়ে যাওয়া থান্ডারের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন তিনিই, ফিরিয়েছেন জে লেন্টনকে। অন্য ওপেনার রায়ান গিবসনও তাঁর শিকার। একটি করে উইকেট পেয়েছেন লেগ স্পিনার তানভীর হায়দার এবং পেসার শুভাশীষ রায়ও। তবে ৪ উইকেট পড়ার পর সফরকারীদের আর কোনো সুযোগই রাখেনি থান্ডারের অধিনায়ক মরগ্যান (৩৩ বলে ৩৪) ও অর্জুন নায়ারের (১৫ বলে ১৭) ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটি। থান্ডার জিতে গেলেও প্রস্তুতির স্বার্থে শেষ দুটি ওভারও বোলিং করেছে বাংলাদেশ। এর একটি করা রুবেল আউট করেছেন মরগ্যানকেও। ব্যাটিং ব্যর্থতার ম্যাচে তাই উজ্জ্বল কাউকে বললে তাঁকেই বলতে হবে। তবে সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জেতা ম্যাচে উজ্জ্বল সৌম্য সরকার তো বটেই, থান্ডারের বিপক্ষে প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের কেউই জ্বলে উঠতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের করা প্রথম ওভারেই দারুণ এক বাউন্ডারিতে শুরু করার পরপরই লেগ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় ওভারে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে এসেছেন সৌম্যও। দুই ওপেনারের পথ ধরে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিমও। একই পথের যাত্রী মোসাদ্দেক হোসেন ও মমিনুল হকও। বিপর্যয়ের পর শুভাগতকে (২৫) নিয়ে প্রতিরোধ গড়া নুরুল হাসান (২৭ বল ৩৫) এরপর সঙ্গ পেয়েছেন তানভীরেরও। তাতে সংগ্রহ ১২০ পার করলেও হার এড়ানোর উপায় ছিল না বিসিবি একাদশের।

Leave a Reply

%d bloggers like this: