তরুন উদ্যোক্তা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন

হামিদুর রহমান, ১ জুন ২০১৭, বৃহস্পতিবার:উদ্যোক্তা হতে স্বপ্ন থাকতে হয়। স্বপ্ন হবে সেটা, যেই স্বপ্ন একজন উদ্যোক্তাকে কখনও ঘুমুতে দিবে না। স্বপ্ন ছিলো নিজে কিছু করবেন। উদ্যোক্তা হবেন। স্বপ্ন ছিলো বলেই বসে থাকেন নি, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বাবু। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন এক্সিওম সফটওয়্যার টেকনোলজিস। চট্টগ্রামের জিইসিতে প্রতিষ্ঠিত এই সফটওয়্যার কোম্পানী বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য কোম্পানীতে সফটওয়্যার বিক্রয় ও বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি চুক্তি করেছেন এশিয়ার বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি ভারতের ট্যালি সলিউশন্স প্রাইভেট লিমিটেড এর সাথে।

তরুন উদ্যোক্তা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এর পৈত্রিক নিবাস লক্ষীপুর জেলায়। বাবা ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী। বাবার চাকুরীর সুবাদে জন্মস্থান রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায়। ছেলেবেলা ও কৌশরের অনেকটাই কেটেছে প্রজেক্ট এলাকায়। এখনো টানে পাহাড়, নদী আর অরন্য। সময় পেলেই ছুটে যান প্রিয় মাতৃভুমি কাপ্তাইতে। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ৫ম। মা গৃহিনী। পড়াশুনা করেছেন কম্পিউটার সাইন্স ও ইন্জিনিয়ারিং এ। ফোকাস বাংলা নিউজ এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এর উদ্যোক্তা হয়ে উঠা ও জীবনে সাফল্যের গল্প।

প্রতিবেদক: একজন উদ্যোক্তা হতে কিভাবে শুরু করলেন?

আনোয়ার হোসেন: শুরুটা ছিলো ২০১০ সালের প্রথম দিকে। তখন আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকরী করতাম।ছোটবেলা থেকেই টুকটাক ব্যবসায় আগ্রহ ছিলো তাই বন্ধুদের  সাথে সখের বসে মাঝে মাঝেই কিছু ব্যবসা করতাম। আমার যখন পড়াশুনা শেষ হয় তার কয়েকদিন পর বাবার চাকরীও শেষ হয়ে যায়। তাই দেরি না করে একটি সফটওয়্যার কোম্পানীতে প্রোগ্রামার পদে চাকরী শুরু করি। প্রায় সাড়ে ৫ বছর চাকরী করার পর আবারো মাথায় ব্যবসায়িক নানা চিন্তা ভাবনা শুরু হল।একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে জনৈক বড় ভাই ফোন করে জানান উনার অফিসে একটা অফিস স্পেস খালি আছে। ভাড়া দিতে চান। কেউ ভাড়া নিতে চাইলে নিতে পারবে।তখন আমি নিজের জন্যই অফিসটার কথা ভাবতে থাকি। দেরী না করে মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় ১০০ বর্গফুটের অফেসটায় বসে পড়ি। চাকরীর পাশাপাশি সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি নিজের অফিসে বসতাম। প্রথমে ওরাকল ট্রেনিং দিয়ে শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে সফটওয়্যার বিক্রয়ের জন্য নিজের পরিচিত মহলে মার্কেটিং শুরু করি। ORACLE ট্রেনিং এ ভালো সাড়া পাই। এজন্য শুরুতে নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছিলাম এক্সিওম প্রোগ্রামিং একাডেমি। এভাবেই চলতে থাকে তরুন উদ্যোক্তা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের স্বপ্নের গাড়িটি।

২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে আমি বিয়ে করি।বিয়ের পর থেকেই সাহসী হতে শুরু করি। জীবন সঙ্গীনি হিসেবে যাকে জড়িয়েছি

তার কিছুটা অনুপ্রেরনায় ও কিছুটা বন্ধুদের পরামর্শে নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে থাকি। কেনো জানি ঐ সময়টায় চাকরীটা আর ভালো লাগছিলো না। আসলে চাকরী ও ব্যবসা দু’টোতে ঠিক সময় দিতে পারছিলাম না। বলতে পারেন এক সঙ্গে দু’টো ঠিক হয়না। মনে মনে ভাবছিলাম ব্যবসাটাই করবো। এমন সময় ভাগ্য লক্ষী ধরা দিলো। একটা গার্মেন্টসে ভালো একটা অর্ডারের কাজ পেয়ে যাই।এই একটি কাজই আমার জীবনের সিদ্বান্ত নিতে অনেকটা সাহায্য করলো।একদিনের সিদ্বান্তে চাকরী ছেড়ে পরদিন থেকে ফুলটাইম ব্যবসায় মনোনিবেশ করি।এরপর সময়ের অভাবে ট্রেনিং বন্ধ করে দিয়ে সম্পূর্নভাবে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিসর বাড়তে থাকায় ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে অফিস পরিবর্তন করে চট্রগ্রামের মুরাদপুরে প্রায় ৮০০ বর্গফুটের অফিসে নিই। অফিসে কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে থাকে। বর্তমানে আমার সাথে সর্বমোট ১৫ জন কর্মীসহ চট্রগ্রামের জিইসিতে সফটওয়্যার ব্যবসা পরিচালনা করছি।

প্রতিবেদক:এক্সিওম সফটওয়্যার টেকনোলজিস প্রতিষ্ঠার ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইবো

আনোয়ার হোসেন: আমি যখন সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরী করতাম তখন একটা বিষয় আমাকে ভাবাতো যে- আমাদের বেশীর ভাগ সফটওয়্যার কোম্পানি গুলো অন্যান্য দেশের কোম্পানির মত ভালো করতে পারছেনা কেন? আর এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে অনলাইনে ইন্ডিয়ার ১ম সারির সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস এর বিজনেস স্ট্রাটেজি সম্পর্কে ধারনা পাই।আর এই ধারনাটাই আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে।আমি আরও লক্ষ্য করে দেখলাম যে ইন্ডিয়াসহ আমাদের সাব কন্টিনেন্টে প্রায় সব সফটওয়্যার কোম্পানি একই স্ট্রাটেজি ব্যবহার করে সফল হয়েছে। মুলত এই ধারনা থেকে অনুপ্রানিত হয়েই এক্সিওম সফটওয়্যার টেকনোলজিস প্রতিষ্ঠা করেছি।এবং আমরা ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই একই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্যে পোছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রতিবেদক: বর্তমানে এক্সিওম সফটওয়্যার টেকনোলজিস কি ধরনের পন্য সেবা দিয়ে আসছে?

আনোয়ার হোসেন:আমাদের সব মিলিয়ে মোট ৯ টি সফটওয়্যার পন্য ও সেবা রয়েছে। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে- অগ্রনী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, আই-পজ রিটেইল ও ডিস্ট্রিবিউশনশীপ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, সাইন থ্রী সিক্সটি অফিস ব্যবস্থাপনা ই আর পি সফটওয়্যার, ইনভেন্টোরিকা ইনভেন্টোরি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, রেস্টো রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপনা ই আর পি সফটওয়্যার, ট্যালি একাইন্টিং ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, এবং ট্রাই-গো উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন রকম কাস্টমাইজড সফটওয়্যার তৈরি করে থাকি যা একেবারেই গ্রাহকের মনের মত তার ব্যবসা পদ্ধতি অনুসারে হয়ে থাকে। আমরা সিস্টেম কন্সাল্টেন্সি ও করে থাকি; যেমন কেউ যদি মনে করে তার ব্যবসায় কোন ম্যনূয়েল পদ্ধতির কারনে কোন সমস্যা হচ্ছে তবে সেই সমস্যা কিভাবে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে সমাধান করা যাবে, কারা এই কাজটি করতে দক্ষ, এই সমস্যা সমাধান করতে কি কি লাগবে, খরচ কেমন হতে পারে ইত্যাদি। আমরা সব সময় আমাদের গ্রাহকদের সাপোর্ট এর বিষয়ে কোন আপোষ করি না যেমন মাঝে মাঝে এমন ও হয়েছে সারা বাংলাদেশের সকল অফিস বন্ধ কিন্তু আমাদের কোন একজন গ্রাহক কোন কারনে বিপদে পড়েছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের প্রোগ্রামার রা প্রয়োজনে বাসায় বসে সাপোর্ট দিয়েছে।গ্রাহকদের সুশৃঙ্খল সাপোর্ট দেয়ার জন্য আমাদের একটি ওয়েব বেসড সফটওয়্যার রয়েছে যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা সার্বক্ষনিক আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন পাশাপাশি আমাদের প্রোগ্রামার রা কখন কাকে কি সাপোর্ট দিয়েছেন, কোন গাফিলতি করেছে কিনা, সাপোর্ট টি দিতে কত সময় লেগেছে, সাপোর্ট টি কোন প্রোগ্রামার দিয়েছে সব জানা যায় মূহুর্তেই। আমাদের অগ্রনী সফটওয়্যার টি ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশে প্রায় একশ এর ও অধিক প্রতিষ্ঠান তাদের সম্পূর্ন মানবসম্পদ ও পেরোল ব্যবস্থাপনা করছে। ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান গুলো যেন সুশৃঙ্খল ভাবে পরিছালনা করা যায় এই লক্ষে আমরা একটি মজার সফটওয়্যার বাজারে এনেছি যার নাম সাইন থ্রী সিক্সটি । সফটওয়্যারটির মাধ্যমে অল্প খরচে একজন মালিক বাসায় বসে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উপস্থিতি তদারকি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের ফরমায়েশ দেয়া, সকল কর্মী রা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা, ব্যবসার লেনদেনের সম্পূর্ন হিসাব, বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা পর্যন্ত গুরুতবপুর্ন সকল কাজ করতে পারবেন। কমপক্ষে ২ জন থেকে শুরু করে অন্তত ৫০০ জন কর্মীর জন্য এই সফটওয়্যার টি দারুন কাজ করে।

প্রতিবেদক: এক্সিওম সফটওয়্যার টেকনোলজিস উল্ল্যেখযোগ্য গ্রাহক কারা?

আনোয়ার হোসেন: হ্যাঁ অবশ্যই। আমাদের বেশীরভাগ গ্রাহক হচ্ছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও রিটেইল মার্কেট। এদের মধ্যে যাদের নাম না বললেই নয় তারা হলেন চট্রগ্রামের আজিম গ্রুপ- এদের প্রায় ৯ টি প্রতিষ্ঠান আমাদের অগ্রনী সফটওয়্যার টি ব্যবহার করছে। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে যেমন ঢাকার এফ সি আই লিমিটেড, টালিসমান লিমিটেড, হাসিব এন্টারপ্রাইজ, চট্রগ্রামের এ্যাপারেল প্রোমোটরস লিমিটেড, স্মার্ট জিন্স, প্যাসিফিক জিন্স সহ আরো অনেকে।

প্রতিবেদক : সম্প্রতি ভারতের একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছেন। কিভাবে? কি সুবিধা পাবেন ভোক্তারা?

আনোয়ার হোসেন: এশিয়ার বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি ভারতের ট্যালি সলিউশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে আমাদের একটি চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। চুক্তিস্বাক্ষরের পূর্বে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওদের অফিস ভিজিট করি এবং তারাও আমার অফিস ভিজিট করে। উভয়ের সক্ষমতা, সামর্থ যাচাই-বাছাই হয় এবং সর্বশেষ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে আমরা তাদের বিভিন্ন পন্যের বিক্রয়, সার্ভিস ও কাস্টমাজেশনের স্বীকৃতি লাভ করেছি। এর ফলে ভোক্তারা এখন থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পন্যের সকল রকম সার্ভিস ও সাপোর্ট বাংলাদেশ থেকেই পাবেন এবং বিভিন্ন রকম সফটওয়্যার যেমনঃ একাউন্টিং, পয়েন্ট অব সেলস, ইনভেন্টরি, পেরোল সহ অনেক সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা পাবেন একটিমাত্র সফটওয়্যার এর মাধ্যমে। বলতে পারেন বাংলাদেশের সফটওয়্যার ভোক্তাদের জন্য এটা একটা বিশেষ সুযোগ।

প্রতিবেদক : সম্প্রতি তরুনদের জন্য ব্যবসার অফার নিয়ে একটা প্রজেক্ট করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে একটু বুঝিয়ে বলবেন?

আনোয়ার হোসেন: অবশ্যই বলবো। এটা হচ্ছে আমাদের প্রতিষ্ঠান এক্সিওম সফরওয়্যার টেকনোলজিস এর সাথে চ্যানেল পার্টনারশীপ বিজনেস। ধারনাটা বলতে পারেন অনেকটা নতুন। বলতে পারেন, আমাদের দেশের তরুনরা যথেষ্ট মেধাবী। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা ও উপর্যুক্ত প্রশিক্ষনে অভাবে তারা কিছু করতে পারছে না। মুলত: এক্সিওম সফরওয়্যার টেকনোলজিস এই জায়গাটায় কাজ করতে চায়। আমরা চাই উদ্যোক্তা তেরী হোক। উদ্যোক্তা তৈরী হলে কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। আমাদের দেশে অনেক তরুন আছে যারা নিজে কিছু করতে চায় কিন্তু সঠিক গাইড লাইন, বিনিয়োগের অভাবে এগোতে পারছেন না। তাই আমরা একটি ব্যবসার মডেল তৈরি করেছি যার মাধ্যমে সারাদেশে আপাতত ৩০-৪০ জনকে নির্বাচন করে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দিবো। এতে তারা সামান্য কিছু টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিমাসে একটা ভালো আয় করতে পারবে।এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং থেকে শুরু করে বিক্রয় ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত যা যা কিছু দরকার আমরা তার সব কিছুই বিনে পয়সায় সরবরাহ করব। মূলত ব্যবসা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করতে গিয়েই এই ধারনাটা মাথায় আসে।

প্রতিবেদক : তরুনদের উদ্দেশ্যে যারা নিজের মত করে শুরু করতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

আনোয়ার হোসেন: তরুনদের উদ্দ্যেশ্যে প্রথমেই বলবো, প্রথমেই একটা কথা মনে রাখবেন। ‘না’ এই শব্দটি শুনতে জানতে হবে। আপনি নিজের যোগ্যতাকে যত বড়ই ভাবে না কেন,এই ‘না’ শুনতে পারার অভ্যাসটা যদি আপনার না থাকে। আপনি কখনোই জীবনে সফল হতে পারবেন না।এই ‘না’ শব্দটিই একদিন আপনাকে আপনার স্বপ্নের পথচলায় সাহায্য করবে।

ব্যবসা শুরু করার আগে ভালো ভাবে বাজার যাচাই করুন। পন্যের বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা,বাজারে প্রতিদ্বন্ধীর সংখ্যা ও লাভ ক্ষতির হিসেব পর্যালোচনা করে তবেই শুরু করা উচিৎ। অন্যের দেখা দেখি যাচাই বাচাই ও মার্কেট গবেষনা না করে কোন ব্যবসা শুরু করা উচিৎ নয়। যখনি সুযোগ আসবে তখনি লুফে নিতে হবে। পরিকল্পনায় অধিক সময় ব্যয় করা যাবে না। ব্যবসায় একটি নিদ্দিষ্ট পরিকল্পনার পাশাপাশি কিছু সহায়ক পরিকল্পনা রাখতে হবে। যাতে করে প্রথমটি ভালো কাজ না করলে সহায়কটির মাধ্যমে অন্তত: টিকে থাকা যায়। ব্যবসায় নেমে মাঝপথে হতাশ হয়ে ছেড়ে দেয়া যাবে না। সাহসের সাথে সমস্যা মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন যে চেষ্টা করে, তাকেই সবাই সাহায্য করে।

ব্যবসার পুঁজিকে মোট তিনটা ভাগে ভাগ করে নিতে হবে-প্রাথমিক পুজি, ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাত করন অর্থাৎ পুঁজি হবে প্রাথমিক পুঁজি ও রিজার্ভ পুঁজি। এক সাথে সব পুঁজি বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

প্রতিবেদক: এবার একেবারে অন্য প্রসঙ্গ। ভালো-মন্দ মিলিয়ে অবসরে কি করেন?

আনোয়ার হোসেন: অবসর খুব একটা পাই না। ব্যবসা ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে। কর্মহীনতা একেবারেই পছন্দ নয়। অবসরে টুক টাক গান শুনি। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাই অথবা ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য অনলাইনেই পড়ে থাকি। বলতে পারেন অনলাইনেই জীবন এখন।

প্রতিবেদক : জীবনের আদর্শ কি যা সব সময় মেনে চলেন?

আনোয়ার হোসেন: যখনি কোন সুযোগ আসে তা পজিটিভলি গ্রহন করি। যেটা শুরু করি সেটা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করি। অন্যেরা পারেনি তাই আমিও পারবোনা এই কথায় বিশ্বাস করতে চাই না। পরিশ্রমের বিকল্প আজ পর্যন্ত কিছু খুঁজে পাই নি।

প্রতিবেদক : নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আনোয়ার হোসেন: জানি স্বপ্ন ও সাফল্যের শেষ নেই। নিজেকে নিয়ে খুব একটা ভাবিনা। একজন মানুষ হিসেবে সমাজে অন্য আর দশজনের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আপাতত পরিকল্পনা হচ্ছে নিজেকে এমন অবস্থায় দেখতে চাই যেখানে আমি সফটওয়্যার শিল্পে অন্তত ১৩০ থেকে ১৫০ জন লোকের কর্ম সংস্থান করতে পারবো এবং দেশের বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হব।

প্রতিবেদক : আজকের অবস্থানে এসে কাদের স্মরণ করবেন?

অবশ্যই প্রথমে স্মরন করবো পরিবারের সদস্যদের। যারা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমার কিছু অকৃপন বন্ধুদের( নাম বলে ওদের খাট করবো না) এবং কিছু নি:স্বার্থ অনাত্মীয় কিন্তু বিশেষ আপনজন আছেন, যাঁদের সাহস ও উপদেশ আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে। কাছের বন্ধুরা সব সময় বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দিয়ে সহযোগীতা করেছেন।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*