ঢাবি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২ জানুয়ারী. ২০১৭, সোমবার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে সান্ধ্যকালীন কোর্স এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে একই সঙ্গে সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে নাখোশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা। এই সিদ্ধান্ত পাল্টানোর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করার পরিকল্পনাও হচ্ছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমাবর্তনের সময় নির্ধারিত করা হয়। এতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্যকালীন এমএ ও এমবিএ এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সান্ধ্যকালীন এমএসএস কোর্সের শিক্ষার্থীরাও এই সমাবর্তনের যোগ দিতে পারবেন। অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যাদের অংশগ্রহণে নোটিশ করে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, তারা কীভাবে সমাবর্তনের মত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদুল হক শিশির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর সন্ধ্যায় পড়েই যদি সমান ফল উপভোগ করা যায় তাহলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ে কী করব? বিশ্ববিদ্যালয় এটা পুনরায় বিবেচনা করলেই ভাল হয়।’
তবে আরেক শিক্ষার্থী খালিদ বলেন, ‘সমাবর্তনে অংশ নেয়ার বিষয়টি এতো জটিলভাবে দেখার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে অংশ নিতেই পারেন।’
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলছেন, স্বাভাবিকভাবেই এখানে সবাই সুযোগ পেতে পারে। তিনি বলেন, ‘সান্ধ্যকালীন হোক অধীনভুক্ত হোক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অতএব তারাও সমান সুযোগ পাবে।’ সার্টিফিকেট বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সান্ধ্যকালীন কোর্সের সার্টিফিকেটে ইভিনিং বিষয়টা লেখাই থাকে সমস্যা হওয়ার তো কথা না।’
আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কানাডার ওয়ের্স্টান ওন্টারিও ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ফরম বিতরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ফরম বিতরণ চলবে। আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২০১৫ সাল থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হবে সে সকল গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তরাই অংশ নিতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*