ঢাবিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত: ধরা ছোঁয়ার বাহিরে বখাটেরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : অব্যাহত রয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যৌনboishakh নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিক্ষোভ। বর্ষবরণ উৎসবে ঢাবির টিএসসিতে নারী লাঞ্ছিতের ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই রয়েছে বখাটেরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে নারীদের লাঞ্ছনাকারীদের ছবি প্রকাশিত হলেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। এ নিয়ে অনেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এ ঘটনায় গোটা জাতি ব্যথিত ও মর্মাহত। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে আসছেন। এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, পুলিশের কাছে যে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ফুটেজের সঙ্গে মিল নেই। ঘটনাটি যেভাবে গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক কি-না, অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল (রোববার) বিকেলে ডিএমপি সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটের ঘটনার ছবি পহেলা বৈশাখের বলেও প্রচার করছে। একটি মহল এটিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের তথ্য দিয়ে তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাছে যে ভিডিও ফুটেজটি আছে তাতে দেখা যাচ্ছে ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন নারী আটকা পড়েছিলেন। এমনকি একজন পড়েও যান। এখন বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ওই নারীদের উত্ত্যক্ত করেছে কিনা। পুলিশ সেটাই যাচাই- বাছাই করছে। আবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল (রোববার) দুপুরে ঢাবির টিএসসি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ইব্রাহিম ফাতেমীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান ও উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। পরিদর্শন শেষে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ফাতেমী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। ওই দিন নারীর শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা কিংবা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা তাও আমরা দেখছি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা বলছেন, তারা এক যৌন নিপীড়ককে ধরে এস আই আশরাফুল আলমের কাছে সোপর্দ করেছেন। গত বুধবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী জানান, পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড নিয়ে ওসির বরাত দিয়ে গণমাধ্যম যে সংবাদটি প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয়। এ ছাড়াও পয়লা বৈশাখে টিএসসি এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধরা। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। গতকাল (রোববার) বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা অনুষদের সামনে যৌন নিপীড়ন ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে তারা শাহবাগ থানা ঘেরাও করে। পরে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করে। অন্যদিকে একই দিন বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। শাহবাগ থেকে মিছিলটি বের করে পরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, নারীদের গৃহবন্ধী করতে এবং পয়লা বৈশাখের সার্বজনীনতা নষ্ট করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সকালে নিপীড়নকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ছাত্র ফেডারেশন বিক্ষোভ মিছিল করে। গতকাল (রোববার) দুপুর ১টার দিকে দোয়েল চত্বরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। গতকাল (রোববার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সংগঠন দুটি। বক্তারা বলেন, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিপীড়নের প্রতিকার ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ সময় ঢাবি প্রক্টরের মিথ্যাচার এবং দায়িত্বের অবহেলায় তার পদত্যাগ দাবি করেন সংগঠনের নেতারা। এদিকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন ফুটেজ দেখে আমরা চার ব্যক্তিকে সনাক্ত করেছি। যারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত বলে ধারণা হচ্ছে। তাদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে তারা ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় নিপীড়নকারীরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতো তা হলে সহজেই তাদের সনাক্ত করা যেত। বহিরাগত হওয়ায় চিহ্নিত করতে সময় লাগছে। তিনি আরো বলেন, আজকালের মধ্যেই আমরা সংবাদ সম্মেলন ডেকে সনাক্তকৃত ওই চার ব্যক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবো। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*