ঢাকা মহানগরীকে মশকমুক্ত করতে ওষুধ প্রয়োগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ মে ২০১৭, বুধবার: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন তার দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে যে কয়টি সাফল্যের দাবি করেছেন, তার একটি হচ্ছে মশা নিধন। কিন্তু মেয়র যতটা দাবি করছেন, নাগরিকরা ততটা মানতে চাইছেন না।
দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তির আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মেয়র খোকন বলেন, ‘মহানগরীকে মশকমুক্ত স্বাস্থ্যস্মত ও মশকবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে মশকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসচেতন করার জন্যে লিফলেট, পোস্টার বিতরণসহ ১০টি টিভি চ্যানেলে টিভিসি প্রচার করা হয়েছে।’
মেয়রের দুই বছর পূর্তিতে সাফল্যের একটি পুস্তিকা বের করেচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কাগজে-কলমে যে সফলতা সেটা মাঠপর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে সেটা দেখার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেছে ঢাকাটাইমস।
সময় বিকেল চরটা। কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে যায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক মশক নিধন কর্মীর সঙ্গে। কথা বলতে চাইলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ছাত্তার নামে ওই কর্মী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাগো কাজ হইছে ওষুধ দেয়া। অত শত আমি কইতে পারুম না, সপ্তাহে একবার ওষুধ দিলে মশার ডিম সব মইরা যায়। আবার কয় দিন পরে ওষুধ দেই।’
রাজধানীর পরিবাগ, কাঁঠালবাগান, ক্রিসেন্ট রোড, কলাবাগান, আলামিন রোড, বাংলামটর, গ্রিন রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকার  সাধারণ মানুষ জানায়, তাদের বাসায় মশার উপদ্রব রয়েছে। নিচতলা এবং দো তলায় যারা বসবাস করেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছেন তারা। পাঁচতলা বা তার উপরের দিকে মশার উপদ্রব একটু কম। মশক নিধনকর্মীরা ঠিকমতো ওষুধ দেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা জোবায়ের মহসিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মশক নিধনকর্মী কয়েক দিন পর পর আইসা পো পো কইরা চইলা যায়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। শুধু মূল রাস্তায় ওষুধ দেয়, গলির ভেতরে ঢোকে না।’
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ মান্নানের। তিনি বলেন, ‘মশকবাহিত রোগীর সংখ্যা খুব বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই আমি মশকবাহিত এডিস ও চিকনগুনিয়া রোগী পাচ্ছি। এই তো দুই দিন আগে কাঁঠালবাগানের এক পরিবারের দুজন রোগী পাই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগ মশার মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন বলেন, ‘মেয়র মশক নিধন নিয়ে, উন্নয়ন নিয়ে যা যা বলেছেন, সেটাই ঠিক। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। রোগ তো হবেই, দেখার বিষয় মশা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না।’
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মশক নিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করেছিলেন মেয়র সাঈদ খোকন। মশক নিধন কার্যক্রমে কর্মীরা যদি তাদের দায়িত্বে অবহেলা করেন তা জানাতে তিনি নিজের মুঠোফোনের নম্বর দিয়ে বলেছিলেন, তাকে যেন সরাসরি ফোন করা হয়। এই কার্যক্রম চলে এক সপ্তাহ। এই উদ্যোগকে নগরবাসী স্বাগত জানিয়েছিল তখন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: