ঢাকায় হরতাল সমর্থকদের ওপর চড়াও পুলিশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার: ঢাকার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার সময় হরতাল সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধাবেলা হরতালের শুরুতেই এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, হরতালের সমর্থনে সকালে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিতে যায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে পিছু হটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দিকে চলে যায় হরতালের সমর্থনে আসা লোকজন।
সেখান থেকে আবারও শাহবাগে অবস্থান নিতে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ আবার কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। আতঙ্কিত লোকজন দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। শাহবাগ ও এর আশাপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হরতাল সমর্থকরা।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শাহবাগ মোড়ে সতর্ক অবস্থানে আছে পুলিশ। এদিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় কিছু সময়ের জন্য শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।
প্রথম থেকেই রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধীতা করে আসছিল তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি। গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ। বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন এ হরতালে সমর্থন দিয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, শাহবাগের আশপাশে কয়েকটি হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও পড়তে হবে বিপাকে। সেজন্য শাহবাগ অবরোধ করার চেষ্টা করায় তাদের বাধা দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*