ঢাকার ধামরাইয়ে গড়ে উঠেছে মৌমাছির খামার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৪ জানুয়ারী ২০১৭, বুধবার: রাস্তার অদূরে জমির পাশে সারি সারি বাক্স। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষাখেত। ফুলে ফুলে উড়ছে অসংখ্য মৌমাছি। বাক্সগুলোর চারপাশেও মৌমাছির ওড়াউড়ি। আনাগোনা। সরিষাখেত আর বাক্সগুলোর মধ্যে ছোটাছুটি দিনভর। আর এর মধ্য দিয়ে আহরণ হচ্ছে টন টন মধু।
ঢাকার ধামরাইয়ে সরিষাখেত ঘিরে গড়ে উঠেছে এই মৌমাছির খামার। শত শত কেজি মধু আহরিত হচ্ছে সেখানে প্রতিদিন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যেভাবে আহরিত হচ্ছে তাতে মাসে ১৫-২০ টন মধু পাওয়া সম্ভব।
শুধু যে মধু আহরিত হচ্ছে তা নয়, ফুলে ফুলে মৌমাছির ওড়ে বেড়ানোতে যে পরাগায়ণ হচ্ছে, যাতে বাম্পার ফলন হবে সরিষার। অর্থাৎ মৌমাছি চাষে দুই দিকে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলায় সরিষাখেতে মধু চাষের জন্য চারটি ব্লকে সাতটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষ ও মধু সংগ্রহে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কোনো দুর্যোগ না এলে সরিষায় বাম্পার ফলনের পাশাপাশি সরিষা থেকে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে লাভবান হবেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাক খামারিরা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান শিকদার জানান, সরিষাখেতে মৌমাছি থাকলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫-২০ ভাগ ফলন বাড়ে। সরিষা ফুলে মৌমাছি যে পরাগায়ণ ঘটায় তাতে সরিষার দানা ভালো হয়। এতে সরিষার ফলনও বাড়বে। যেখানে সরিষা খেতে মৌমাছি নেই সেখানে সরিষার ফলন কম হয় বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ধামরাই উপজেলার আটিগ্রাম, ইকুরিয়া, আশুলিয়া, ভাড়ারিয়া, দীঘলগ্রামে চারটি ব্লকে সাতটি স্থানে ৭৮৬টি মৌ কলোনির (স্থানীয় নাম মধুর বাক্স) মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। যারা মৌ চাষ করছেন, তারা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। মৌ চাষি জামাল মৃধা জানান, দুই বছর আগে গাজীপুর বিসিকে মৌ চাষ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর ধামরাইয়ের আশুলিয়ার দুই বন্ধু মিলে শুরু করেন মধু চাষ। বর্তমানে ৫০টি বাক্সে আট দিন পর পর ১৪০-১৬০ কেজি মধু আহরিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা।ইকুরিয়া গ্রামের মৌ চাষী তাহের জানান, ৪০টি বাক্স নিয়ে তিনি মৌ চাষ শুরু করেন। বিনিয়োগ করেছিলেন ১ লাখ টাকা। এখন তার ১০০টি বাক্স। প্রতি সপ্তাহে গড়ে সাত মণ মধু আহরণ করছেন, যার বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকার মতো।
আরো বেশি বাক্সে মৌ চাষ করেন আয়ুব আলী। তার ১২০টি বাক্সে প্রতি সপ্তাহে গড়ে আট মণ মধু আহরিত হয়। প্রতি মণ মধুর দাম ৯ হাজার টাকার ওপর নয় হাজার টাকার ওপর। তিনি গত মাসে ২২ মণ মধু সংগ্রহ করেন বলে জানান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কিছুটা দূরে সরিষাখেতের পাশেই সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে মৌমাছির বাক্স। হাজার হাজার মৌমাছি হলুদ রঙের সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করছে। সাত-আট দিন পর পর ওই সব বাক্স থেকে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে মধু সংগ্রহ করেন চাষিরা।
কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, প্রতি বাক্সে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মৌমাছি আর একটি মাত্র রানী মৌমাছি থাকে। এরা ‘এফিস মিলিফেরা’ জাতের মৌমাছি। রানী মৌমাছি ডিম দেয়। অন্য মৌমাছিগুলো মধু সংগ্রহ করে। মধু আহরণে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরের সরিষা খেতেও চলে যায় মৌমাছি। এরা মানুষের কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না।
লুৎফর রহমান সিকদার আরো জানান, সরিষার চাষের পাশাপাশি ৭৫৬টি মৌমাছি চাষের ব্লকে ১০-১২ দিন পর পর ৩০০ কেজি মুধ সংগ্রহ করা হয়। এতে বছরে প্রায় ১৫-২০ টন মুধ সংগ্রহ করা সম্ভব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: