ডিপ্লোমা ক্ষেত্রে শিক্ষা-শৃঙ্খলা বাস্তবায়ন অন্তরা দূরে কর্মসংস্থান হবে আলোকায়ন

মো. আবুল হাসান ও খন রঞ্জন রায়, ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার: ডিপ্লোমা শিক্ষা জাতির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড, জাতির অধিকার, জাতিকে সবল আদর্শ সু-নাগরিক কর্মক্ষম হিসেবে তৈরী করতে হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সমসাময়িক পৃথিবীতে যত জাতি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁচছেন তারা সকলেই ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যাপকভাবে উন্নতি সাধন করেই সাফল্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা স্বপ্ন দেখতেন এবং এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন। এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে রক্তিম সুর্যোদয়ের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতিকে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। দৃঢ় হাতে হাল ধরে তিনি নৌকা ভাসিয়েছিলেন স্বপ্ন পূরণের পথে। এই পথযাত্রায় তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন পুরো বাঙালিকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা বলতে ‘পরিপূর্ণ বাংলাদেশ’কে বুঝিয়েছেন। তিনি সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন পরিপূর্ণ বাংলাদেশ চেয়েছেন। এখন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা সেই অসমাপ্ত সোনার বাংলার সত্যিকারের রূপ দিতে কাজ করছেন নিরন্তর। এটি চিরন্তন সত্য যে, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা উন্নতি উন্নয়নের রথযাত্রার মধ্য দিয়েই প্রত্যাশিত সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে হাটঁতে হচ্ছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শব্দ সংযোজন করে বঙ্গনেত্রী শেখ হাসিনা যে দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা ও গতিশীল অর্থনীতির স্বপ্ন তরুণদের দেখিয়েছিলেন সেটিই এখন বাস্তবায়ন মহাষজ্ঞ চলছে। বলা হয়ে থাকে জাতির জনকের সোনার বাংলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রূপ হলো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। এক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশপ্রেমিক এবং উন্নত মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ডিপ্লোমা শিক্ষার অনবদ্য ভূমিকা সুস্পষ্ট করা।
গত ২৫ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টে (ঝঞঊচ)’ ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং- এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশের লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মত ‘স্কিলস কম্পিটিশন ২০১৬’ তে শিক্ষামন্ত্রী জনাব  নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ অর্জনে আমরা দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সরকার দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনভিত্তিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশে ডিপ্লোমা শিক্ষায় ভর্তির হার ২০ ভাগ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ৩০ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কিলস কম্পিটিশন ক্রোড়পত্রে তিনি, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বানীতে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন এই আশ্বাষ।
এর অল্পদিন পর ১৫ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার চট্টগ্রাম ক্লাব মিলনায়তনে চিটাগাং বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাসিং আউট এবং চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিপ্লোমা শিক্ষার গুরুত্ব সর্ম্পকে বলেন, আজকের যুগে সাধারণ ডিগ্রি নিলে হবে না, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার দরকার। ডিপ্লোমা শিক্ষা হচ্ছে- এখন অগ্রাধিকারের-অগ্রাধিকার। আমাদের সন্তানরা দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বড় বড় সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি খুঁজে। কিন্তু সবাই চাকরি পাননা। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের ডিপ্লোমা শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে মোট  শিক্ষার্থীর ৬৫ শতাংশকে ডিপ্লোমা শিক্ষায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি আরো বলেন- জার্মানিতে মোট শিক্ষার্থীর ৮০ শতাংশের বেশি কারিগরি বিষয়ে নিয়ে পড়াশোনা করছে। ইউরোপে এই হার ৬০ শতাংশের বেশি। এই হিসাবে এখনো বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, পোশাক খাতে কয়েক বছর আগেও ১৯ হাজার বিদেশি বিশেষজ্ঞ চাকরি করতেন। তাঁরা ডলারে বেতন দিয়ে যেতেন (সূত্র দৈনিক আজাদী ১৬ এপ্রিল ২০১৭)। এছাড়াও পুরো সপ্তাহব্যাপি জাতীয় ও আধুনিক দৈনিক, আকাশ মিডিয়াসহ ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রসারে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণাকে গুরুত্ব প্রদান করে খবর পরিবেশন, বিশেষ নিবন্ধ ও টকশো আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালে ডিপ্লোমা শিক্ষা হার ৬৫ শতাংশ উন্নতি ঘটলে, বাংলাদেশে শিল্প, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানে বৈল্পবিক পরিবর্তন ঘটবে। দুর্গম দ্বীপ, উপকূল, হাওর, পাহাড়, বরেন্দ্র, সীমান্ত উপজেলাগুলোতে আধুনিক শিল্প কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে উঠবে। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মেধা ও শ্রমে হাইটেক ও সুপারসনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটবে। প্রতিটি শিল্প, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক আধুনিক থেকে আধুনিকতর হবে।
এ দেশে নিু প্রযুক্তি তালা, চশমা, কলম, ঘড়ি, মোবাইল, কাগজ, কম্পিউটার, গাড়ী, রেল ইঞ্জিন, মধ্যম প্রযুক্তির এক্সরে মেশিন, জেনারেটর, ক্রেন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির হেলিকপ্টার, বিমান, সাবমেরিন, মহাকাশযান, নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট তৈরি হবে। পশু সম্পদ, প্রল্ট্রী সম্পদ মৎস্য সম্পদে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে। প্রতিটি গ্রাম থেকে দুইটি করে কৃষি, দুইটি করে শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্ডেন, মাদ্রাসাগুলোতে ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন প্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদের পদচারণায় দ্রুততম সময়ে সরকারি শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হবে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা উপজেলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ডিপ্লোমা, মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট, নার্স, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতাল বিশ্বমানের হবে। বাংলাদেশ থেকে কোন রুগি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবে না। উপরুন্ত বিদেশ থেকে বাংলাদেশে মেডিকেল পর্যটক অন্তর্ভুক্ত হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রশিক্ষণবিহীন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের পরিবর্তে ডিপ্লোমা, মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট, নার্স মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট নিয়োগ পাবেন। রাজধানীর শহর ঢাকার বঙ্গভবন, গণভবন থেকে দুর্গম দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী গ্রামের প্রতিটি লোক আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। শিশু ও মাতৃত্ব/প্রসূতি মৃত্যুর হাত শূণ্য কোটায় উপনীত হবে। এদেশের মানুষের গড় আয়ু শতবর্ষে উন্নীত হবে।
কী গ্রাম, কী শহরে অপরিকল্পিত বাসস্থানের পরিবর্তে পরিকল্পনামাফিক প্রতিটি গ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট ৪ ইউনিটের ১০০ দালান নির্মিত হবে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম সেন্টাল সেফটি ট্যাংকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্যাস উৎপন্ন হবে। আমাদের দেশে এসএসসির পর ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ ৪ বছর। প্রতিবছর ৯/১০ লাখ তরুণকে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির সুযোগ করে দিতে পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও অটো বাস্তবে পরিণত হবে। ২০২০ সালে জনসংখ্যা ১৬ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ কোটিতে উপনীত হবে। নবীন মুখ ৭ কোটিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি দিয়ে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারিত হবে। ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়ন করে ৭ কোটি লোক বিদেশে রপ্তানি করলে ২০২০ সালে এদেশে জনমত ঘনত্ব স্থিতিশীল থাকবে।
মাইনিং ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা আন্তর্জাতিকমানের খনিজ সম্পদ আবিস্কার ও উত্তোলন কোম্পানি গড়ে তুলবেন। বিশ্বের ৪ ভাগের ১ ভাগ খনিজ সম্পদ আবিস্কার ও উত্তোলনে এ দেশে কোম্পানি বিশ্ব নিয়ন্ত্রন করবে। ৪ বছর মেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণে প্রাপ্ত ক্রীড়াবিদের নৈপূণ্যতায় ক্রিড়াঙ্গনের বিশ্ব আসর বাংলাদেশের দখলে আসবে। ২০৫০ সালের মধ্যে নভোচারীরা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা চাঁদের বুকে পুঁতে আসবেন। বাংলাদেশে বেকার কোন শব্দ থাকবে না। উল্টো উচ্চ বেতনে অর্ধকোটি তরুণ বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিদেশে কাজের সুযোগ পাবে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর আমদানিমুখীর পরিবর্তে রপ্তানিমুখীতে পরিণত হবে। সরকারের রাজস্ব আয় ১৩০ গুণ বৃদ্ধি পাবে। এদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিঁছু আয় ৭০-৮০ হাজার ডলারে উন্নতি ঘটবে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ১২-১৪ তে উঠানামা করবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ২৫ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ ঢাকা ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স কার্য্যলয়ের ঘোষণা এবং স্কিল কমপিটিশন উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রদত্ত বানীতে ডিপ্লোমা শিক্ষার হার ২০২০ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ উন্নতি ঘটানো এবং ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে ২০২০ সালের মধ্যে ডিপ্লোমা শিক্ষা হার ৬৫ শতাংশের উন্নতি করবেন এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ স্বাগত ও অভিনন্দন জানাচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে ১৬ লক্ষ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০২০ সালে ডিপ্লোমা শিক্ষারহার ৬৫ শতাংশ উন্নীত করতে হলে ৮/৯ লাখ শিক্ষার্থীকে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। চর্তুদশ শতকের খ্যাতনামা হযরত নিজামউদ্দিনকে দিল্লির শাসক ফিরোজ শাহ তুঘলক ‘সুলতান আল মাশায়েখ’ বা সুফিসম্রাট নামে অভিহিত করেছিলেন। নিজামউদ্দিনের জীবনকালে ১৪ জন শাসক দিল্লির মসনদে বসেছেন। তিনি কখনোই ওই শাসকদের পরোয়া করেননি, কোনো দানও গ্রহণ করেননি। একপর্যায়ে সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক তাঁর ওপর খুবই খেপে যান। সুলতান তখন বাংলাদেশে একটি অভিযানে ছিলেন। তিনি বার্তা পাঠালেন, তিনি ফেরার আগেই নিজামউদ্দিন যেন দিল্লি ছেড়ে চলে যান। নিজামউদ্দিনের সঙ্গীসাথিরা ভয় পেলেন, হযরতকে পরামর্শ দিলেন, সুলতান এসে পড়ল বলে, তাড়াতাড়ি সরে পড়–ন। হযরত তাঁর সাথিদের শান্ত থাকতে বলে উচ্চারণ করেন সেই বিখ্যাত বাক্যটি- হনুজ দিলি দূরঅস্ত (দিল্লি এখনো অনেক দূরে)।
তেমনি শিক্ষামন্ত্রী ২০২০ সালে ডিপ্লোমা শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ উন্নীত করার চিন্তা দিল্লি এখনো অনেক দূরে। এ দেশে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রসারে উপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী, অবজ্ঞা, অবহেলা করেছেন। সাধারণ শিক্ষা প্রসারে গুরুত্ব প্রদান করে অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ তিন আমলে ৮টি আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গঠন করেছেন। বোর্ডসমূহ প্রতিনিয়ত নিজস্ব জুড়িশিয়াল এলাকায় নতুন কলেজ অনুমোদন দিচ্ছে। সেনা, নৌ, বিমান, আনসার, র‌্যাব, বিজিবিও এই কাজে বেশ অগ্রগামী। অথচ ডিপ্লোমা শিক্ষার আলাদা বোর্ড না থাকায় এই শিক্ষা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন, এতিম, নিয়ন্ত্রনহীন।
তাদের ব্যারাকে নিজেদের উদ্যাগে কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দেশে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানের নটরডেম, হলিক্রস, ক্যাডেট কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ইত্যাদি রয়েছে। গত শতকে সরকারের এক নির্বাহি আদেশে প্রতিষ্ঠিত কিছু উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তরিত করে সাধারণ শিক্ষার হার আর একধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। এক দশক আগে শিক্ষামন্ত্রীর এক স্বাক্ষরের বদৌলতে রাতারাতি উন্নত মানের হাইস্কুল গুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স চালু হয়। মেধাবী ও উচ্চবংশের শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা কোর্সের অধ্যায়নে লাইগেশন হয়। বিদ্যুৎশাহী, রাজনীতিবিদ, সরকারি উচ্চপদস্থ আমলারা নিজ এলাকায় দাদা-দাদী, নানা-নানী, শুশুর-শাশুড়ী, প্রিয়তমা স্ত্রী, ছেলে সন্তান এমনকি নিজের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে পিছ পা হচ্ছেন না। কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তরা গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার থেকে স্বল্প ব্যায়ে, স্বল্প সময়ে নিকটস্থ বোর্ড থেকে কলেজ অনুমোদন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সমাধা করতে পারেন। বাংলাদেশে এমন কোন দ্বীপ, উপকূল, হাওর, বরেন্দ্র, পাহাড়ী, সীমান্তবর্তী উপজেলা পাওয়া যাবে না যেখানে একাধিক কলেজ নেই।
অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিপ্লোমা শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থা বললে ভুল হবে না। কেননা স্বাধীনতার পর বিগত চল্লিশ বছরেরও বেশী সময়ে বহু শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট ডিপ্লোমা শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হয়নি। জনাব নাহিদ পূর্বসূরীদের ন্যায় গতানুগতিক শুধুমাত্র একজন শিক্ষামন্ত্রী নন। আমাদের গর্ব করার মত ঝুড়িতে রয়েছে অনেক কীর্তি।
শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা দিচ্ছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বশরীরে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে ই-৯ ভূক্ত ৯ দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সভাপতিত্বে দায়িত্ব পারন করছেন। ই-৯ সদস্যভূক্ত ৯ দেশের লোকসংখ্যা পৃথিবীর জনসংখ্যার ৩ ভাগের ২ ভাগ। জনাব নাহিদের ডিপ্লোমা শিক্ষা ভিশন-২০২০ এ ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় একটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। আর তা হলো উপনিবেশিক আমলে গড়া শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে ডিপ্লোমা শিক্ষা কার্যক্রম পৃথক করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, খুলনা ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, সিলেট ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, রংপুর ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস জাতির এই গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে জনাব নাহিদই সামর্থ হবেন। লেখক: সভাপতি ও মহাসচিব ডিপে¬ামা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: