ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরা ছিল না, দাবি বিপণী সংস্থার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : নারীদের পোশাক পরিবর্তন করার জায়গায় গোপন ক্যামেরা রেখেtrial-room-camera দেওয়ার অভিযোগ ওঠার একদিন পর শনিবার সংশ্লিষ্ট বিপণী সংস্থার তরফে জানিয়ে দেওয়া হল যে ট্রায়াল রুমে কোনও গোপন ক্যামেরাই ছিল না। এদিন ওই বিপণীর মুম্বাইয়ের সদর দফতর থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, তাদের গোয়ার আউটলেটে শুধু পোশাক পরিবর্তনের জায়গাতেই নয়, শোরুমের কোথাও কোনো গোপন ক্যামেরা বসানো নেই। কেবল শপিং এরিয়ার মধ্যে সিসিটিভি বসানো আছে, নজরদারির জন্য। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও দাবি করা হয় যে, ওই সংস্থা মূলত নারীকেন্দ্রিক। ভারত ও বিশ্ব সংস্থার যতগুলি শোরুম রয়েছে, সেখানে মোট কর্মচারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী। সংস্থার দাবি, তারা নারীদের সম্ভ্রমকে উচ্চ মর্যাদা দেয়। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তার কঠোর সাজা হওয়া উচিত। বস্তুত, স্বামীর সঙ্গে গোয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়ে শুক্রবার ক্যান্ডোলিমের একটি জনপ্রিয় পোশাক বিপণির শো-রুমে যান কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। একটি পোশাক পরে দেখার জন্য ট্রায়াল রুমে ঢোকার পর হঠাৎ-ই একটি গোপন ক্যামেরা দেখতে পান তিনি। দেখা যায় ক্যামেরায় তখন রেকর্ডিং হচ্ছিল। ট্রায়াল রুম থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বিষয়টি স্বামীকে জানান। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক মাইকেল লোবোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্মৃতি। বিজেপি বিধায়ক ক্যান্ডোলিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শো-রুমে পৌঁছায় পুলিশ। লোবোর দাবি, যে সিসিটিভি ক্যামেরায় ট্রায়াল রুমের ছবি তোলা হচ্ছিল, তার ছবি রেকর্ড হচ্ছিল শো-রুমের এক ম্যানেজারের ঘরের কম্পিউটারে। ফুটেজ পরীক্ষা করে ধরা পড়ে স্মৃতি যখন ট্রায়াল রুমে ছিলেন, তখন ক্যামেরা রেকর্ডিং মোডেই ছিল। বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন নারীর পোশাক বদলের ছবি ওই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় বিপণীর চার কর্মী পরেশ ভগত, রাজু পয়াঞ্চে, প্রশান্ত নায়েক ও করিম লখানিকে। শনিবার গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের গোয়ার আদালতে তোলা হলে ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন বিচারক। আগাম জামিনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন বিপণির স্টোর ম্যানেজারও। নারীর সম্ভ্রমহানির অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মহিলা কমিশন। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকর জানিয়েছেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত কি না তা খতিয়ে দেখবে প্রশাসন। এদিন গোটা ঘটনায় স্মৃতির অস্বস্তি হওয়ায় তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে ওই বিপণী সংস্থা। পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংস্থা নিজেও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত টিম গঠন করেছে বলেও জানা গিয়েছে। সূত্র: স্টার আনন্দ

Leave a Reply

%d bloggers like this: