টোরির নেতৃত্বে নির্বাচনে মুখোমুখি থেরেসা মে ও মাইকেল গোভ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ জুলাই: ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচনে হাজির হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন বরিস জনসন। কিন্তু শেষ eপর্যন্ত তিনিই দাঁড়াচ্ছেন না দলীয় প্রধানের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে বরিসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ দাঁড়িয়েছেন এই নির্বাচনে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। নির্বাচনী দৌঁড়ে আরও রয়েছেন কর্ম ও অবসর ভাতা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাব, জ্বালানিমন্ত্রী অ্যান্দ্রিয়া লিডসম ও সাবেক মন্ত্রী লিয়াম ফক্স। এখন এদের মধ্য থেকেই একজন দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হবেন দুই ধাপের নির্বাচনে। সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে জানা যাবে এই নির্বাচনের ফলাফল। আর দলীয় প্রধান হিসেবে যিনিই নির্বাচিত হবেন, ডেভিড ক্যামেরন আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতেই অর্পণ করবেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল বৃটিশ সময় দুপুর পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় ছিল। আর এই সময়ের শেষে গিয়ে দলের প্রধানের পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন পাঁচজন। পূর্বানুমান অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন এই পদের জন্য। তবে লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন সরে দাঁড়িয়েছেন এই নির্বাচন থেকে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় প্রধানের এই পদের জন্য খুব বেশি আগ্রহ না দেখানো বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ শেষ পর্যন্ত টোরিদের নেতৃত্ব দিতে দাঁড়িয়েছেন নির্বাচনে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বরিস নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম হবেন না বা সামনের দিনের কাজের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে পারবেন না। আর সে কারণেই তিনি দলের নেতৃত্ব দিতে সামনে এগিয়ে এসেছেন। বরিসের মতোই নির্বাচনী দৌঁড় থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ও শিক্ষামন্ত্রী নিকি মরগান। এর মধ্যে হান্ট সমর্থন জানিয়েছেন থেরেসা মে’র প্রতি। আর ব্রেক্সিটের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করার জন্য দলের নেতৃত্বের নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যান্দ্রিয়া লিডসম। থেরেসা মে, মাইকেল গোভ ও লিডসামের সঙ্গে নির্বাচনে আরো রয়েছেন স্টিফেন ক্র্যাব ও লিয়াম ফক্স। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত থেরেসা মে ও মাইকেল গোভের মধ্যেই থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত ছিল। গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে সবচেয়ে সরব নেতা বরিস জনসনের সমর্থক হিসেবেই তিনি টোরি নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি। নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গোভ বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি যে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। সব সময় আমি এমনটিই ভেবে এসেছি। কিন্তু বৃহস্পতিবারের গণভোটের পর আমার জন্য পরিস্থিতি বদলে গেছে। এই নেতৃত্বের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন তাদের সবাইকে আমি সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। সুনির্দিষ্টভাবে আমি বরিস জনসনের পিছনে কাজ করার জন্য একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলাম, যাতে করে ইইউ ত্যাগ করার পক্ষের একজন রাজনীতিবিদ আমাদের একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়েছে যে বরিস এমন নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম নন বা সামনে পড়ে থাকা কাজ করার জন্য দলকে প্রস্তুত করতে সমর্থন নন তিনি।’ গোভ বলেন, ‘আমি চাই দেশ কোন পথে এগিয়ে যাবে তা নিয়ে উন্মুক্ত ও ইতিবাচক বিতর্ক হোক। সেই বিতর্কের ফল যাই হোক না কেন, আমি সেটাকে সম্মান জানাব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমি যুক্তরাজ্যের জন্য আমার পরিকল্পনা তুলে ধরব যা ঐক্য ও পরিবর্তন আনবে বলে আমি আশা করি।’ তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আবার সামনে ‘বড় ধরনের সুযোগ’ও রয়েছে। বরিসের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানো ও গোভের প্রার্থিতা ঘোষণার পর পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডমিনিক রাব তার সমর্থন জানিয়েছেন মাইকেল গোভের প্রতি। এর আগে তিনি বরিস জনসনকে প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এই পদের জন্য গোভকে উপযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।
এই নির্বাচনে গোভের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি গণভোটে ডেভিড ক্যামেরনের পক্ষে অর্থাৎ ইইউ ত্যাগের বিপক্ষে ছিলেন। নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের জন্য এখনকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আলোচনা সর্বোত্তমভাবে করার জন্য শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।’ গণভোটে ইইউয়ে থেকে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন থেরেসা। তিনি মনে করেন, ইইউ ছেড়ে যাওয়ার জন্য আলোচনার কৌশল কী হবে, তা নির্ধারণ করার আগে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত হবে না। তিনি এর জন্য নতুন সরকারে বিশেষ একটি বিভাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এবং ব্রেক্সিটের পক্ষের মন্ত্রিদের নেতৃত্বেই ওই বিভাগ পরিচালিত হবে বলে জানান। দল ও দেশকে একতাবদ্ধ করার জন্যও নিজেকে উপযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে গণভোটে ইইউয় ত্যাগ করার পক্ষে সবচেয়ে সরব নেতা লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন দলীয় প্রধানের নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দলের যে ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন তা তিনি দিতে সক্ষম নন। দলের একতা ধরে রাখাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। কনজারভেটিভ পার্টির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বরিসের নামই আলোচনার শীর্ষে থাকলেও তিনি এই পরিস্থিতিতে নিজেকে যোগ্য নেতা বলে মনে করছেন না। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতাকে দলের ঐক্য এবং বিশ্বের দরবারে বৃটেনের উচ্চ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংসদে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, আমি তেমন নেতা হতে পারব না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*