টেকনাফ সৈকতে গভীর সমুদ্র থেকে ভেসে আসা ডলফিন পাহারা দিচ্ছে কুকুর

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে 02-04-2015নির্বিচারে ডলফিন নিধন চলছে। জেলেদের জালে আটকা পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে এসব ডলফিন। পরে সেসব মৃত ডলফিন সাগরে ফেলে দেওয়ায় ভেসে আসছে তীরে। পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বোটল নাথ ডলফিন নিধন অব্যাহত থাকলে তা জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহে উপকূলের বিভিন্ন স্থানে জোয়ারের পানিতে অন্তত ১০-১২টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ভেসে আসা ডলফিনের পিঠ, মাথা ও চোখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ২মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের মহেষখালীয়াপাড়া, দরগারছড়া ও রাজারছড়া সৈকতের বালুচরে একই স্থানে দুটিসহ আটটি মৃত ডলফিন পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিটি ডলফিনের ওজন তিন থেকে পাঁচ মণ ও লম্বা ছয় ফুট। এমনকি কয়েকটি কুকুর মৃত ডলফিন নিয়ে টানাটানি করছেন। টেকনাফের দরগারছড়া এলাকার নৌকার জেলে আব্দু শুক্কুর জানান, কয়েকদিন আগে একই সৈকতে আরও তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছিল। সেগুলো মাটিতে পুঁতে না ফেলায় দুর্গন্ধে সৈকতে হাঁটাচলা অনেক কষ্টকর হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, গত চার-পাঁচদিন আগে পশ্চিমপাড়া সৈকতে প্রায় তিন মণ ওজনের একটি মরা ডলফিন ভেসে আসে। সেটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পাখা কেটে নেওয়ায় রক্ত ঝড়ে পড়ছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের ধারণা, সাগরে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ার পর জেলেরা এসব ডলফিন পিটিয়ে মেরে পানিতে ফেলে দিচ্ছে। তবে অনেকের দাবি, জালে আটকা পড়া ডলফিন না মেরে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ডলফিনকে মেরে ফেলা বাংলাদেশ বন্যপ্রানি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোন জালে ডলফিন আটকা পড়লে সেটিকে মেরে না ফেলে সমুদ্র ছেড়ে দেওয়া উচিত। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, ডলফিন নিধন বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিবিএ/ ইসিএ প্রকল্পের মাধ্যমে সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষার্থে কাজ করছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: