টেকনাফে মিষ্টি আমের বাম্পার ফলন

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার : সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে চলতি মৌসুমেTeknaf-pic-A-08-04-2015 মিষ্টি আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ আম রপ্তানী করে কোটি টাকারও বেশী অর্থ আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমচাষীরা। যথাযথ মুল্য পাওয়ায় আম চাষীদের মাঝে দেখা দিয়েছে আনন্দ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেটজাতের মাধ্যমে এসব আম বিক্রি করে থাকেন। টেকনাফ পৌর এলাকায় প্রতিদিন আমের হাট বসে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গ্রামীণ ব্যবসায়ীরা প্রান্তীক চাষীদের কাছ থেকে প্রতি কেজি কাঁচা আম ১০০-১৫০ টাকায় ক্রয় করে। পরবর্তীতে সে আম এখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীদের মাঝে ২০০-২৫০ টাকায় সহজে বিক্রি করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফাল্গুন-চৈত্র-বৈশাখ এ তিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে টেকনাফ থেকে অন্তত ২মাস ধরে প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি করে আম দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ৭-৮হাজার কেজি বা ৭-৮টন আম যার মূল্য ১০ লক্ষের বেশী টাকা প্রতিদিন সীমান্ত এউপজেলার কৃষকদের আর্থিক খাতে যুক্ত হচ্ছে। সে হিসেবে কৃষকরা শুধু কাঁচা আম বিক্রি করে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করছে। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কাওরানবাজার ও নারায়নগঞ্জে এসব কাঁচা আম বাজারজাত করা হয়। টেকনাফের আম ব্যবসায়ী নবী হোসন জানান, বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে ঢাকার বাজারে বিক্রি করে ঝামেলা ছাড়াই ভাল মত টাকা আয় করতে পেরে খুব ভাল লাগছে। নারায়নগঞ্জের নাহিদ হোসেন ও ঢাকা কাওরানবাজার এলাকার শাহজাহান জানান, টেকনাফ থেকে আম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি করে আয়কৃত টাকা দিয়ে কোনমত সংসার চালাচ্ছি। তবে কি ভাই, সড়ক পরিবহনে পথে পথে বিশেষ সংস্থাকে চাঁদা দিতে গিয়েই রীতিমত খিমশিম খেতে হচ্ছে। সড়ক হয়রানী কমলে এব্যবসায় জড়িতরা আরো বেশী লাভবান হতে পারবে বলে উক্ত আম ব্যবসায়ীদের অভিমত। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে নানা মুখী উদ্যোগে ব্যাপক হারে আম চাষ করে রপ্তানীকৃত টাকার আরো কয়েক গুন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। টেকনাফে আসলে কোন আমের খামার নেই। স্থানীয়রা বসতভিটায় আমের চারা রোপন করে পুষ্টির চাহিদা পুরণে ভূমিকা রাখছে। বছরে টেকনাফে আমের কি পরিমাণ ফলন হয় কৃষি অফিস সুত্রেও সে তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম জানান, ফাল্গুন মাসে যখন আম গাছে মুকুল ধরে তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ে। এবছর এধরনের হয়নি বলে আমের ফলন ভাল হয়েছে। চলতি মৌসুমে এখানে বার্মাাইয়া ও লোকাল জাতের আমের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। গ্রামীণ অভিজ্ঞ কৃষককুল মনে করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগীর সহায়তা পেলে পরিকল্পিত আম বাগান করে আরো বেশী প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যাবে। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, আসলে ফুড বিয়ারিংয়ের কারণে এক বছর ফলন বেশী হলে অন্য বছর কম হয় থাকে। এখানে ম্যানেজমেন্ট তথা যথাযথ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় না। অনেকে বাড়ীর আঙ্গিনায় গাছ রোপন করেছে সে গাছে আম ধরছে, খাচ্ছে এবং বিক্রি করছে। অথচ ব্যবস্থপনাটা সঠিক ভাবে করছে না। তিনি প্রতিবছর আমের ফলন ভাল হওয়ার জন্য সঠিক ব্যবস্থপনার উপর গুরুতারোপ করেন। প্রান্তীক চাষীদের বেশী বেশী প্রশিক্ষণ, পরিকল্পিত আম বাগান করে ফলন বাড়ানো সম্ভব। এতে করে গ্রামীণ কৃষকরা কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারবে। সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে সড়ক পরিবহনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হয়রাণী বন্ধে ব্যবসায়ীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: