টুঙ্গিপাড়ায় মন্দিরে ভাংচুর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৮ জানুয়ারী ২০১৭, রবিবার: টুঙ্গিপাড়ার বড় ডুমুরিয়ার জামাই বাজার এলাকায় তিনটি সার্বজনীন মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনার উৎপত্তি সম্পর্কে নানা ধরণের তথ্য ছড়িয়ে আছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। শুক্রবার প্রতিবেদকের গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্স, লঞ্চঘাট হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। প্রতিবেদকের কাছে স্থানটি সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়ায় পাটগাতি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক রমজানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বলা হয়- জামাই বাজারের কাছে যে মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে, সেখানে কীভাবে যাব?
চট করে রমজান কৌতুহলী দৃষ্টিতে প্রতিবেদকের দিকে তাকিয়ে বলেন, কী করবেন স্যার? আপনে প্রশাসনের কেউ?
সাংবাদিক পরিচয় দেবার পর তিনি একটু নিচু স্বরে বলেন, ভাল কইরা খোঁজ নিয়ে লেইখেন। হুনছি, হিন্দুরা বলে মসজিদ ভাইঙ্গা ফালাইছিল। এরপরে মুসলমানরা বলে জিদ কইরা মন্দির ভাংসে।
‘না, কী করছে’
মঞ্জুর বলেন, হেরা নিজেরাই মন্দির ভাংছে, দোষ দিতাছে মুসলমানের উপরে, এইটা গেরামের সবাই জানে। কিন্তু প্রশাসন তো হিন্দুগো পক্ষেই কাম করতাছে। এইটা কী ঠিক?
যাবার উপায় বর্ণনা শেষে জহির নামের ব্যক্তি একটু রূঢ়তার সঙ্গে বলেন, হেরাই তো ভাংছে, আবার হেগোরেই টেকা দিবেন? ভাইঙ্গা আমগো মুসলমান গো উপরে দোষ চাপাইছে। যান, যান, আইছেন তো দালালি করতে।
গত বুধবারের ভাংচুরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সিরাজ শেখ ও ইজাজ শেখের বাড়ি এই বাঁশবাড়িয়াতেই। হিন্দুদের অভিযোগ- জায়গা দখল না করতে পেরে তারই মসজিদের কথা বলে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতা গ্রহণ করার চেষ্টা করে। তারা হিন্দুদের বিরুদ্ধে গুজব রটায় সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে।
জহিরের সঙ্গে কথা শেষে একটি পাকা সেতু হেঁটে পার হয়ে একটি মোটর চালিত ভ্যানগাড়ি ভাড়া করে জামাই বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়া হয়।
‘কোনো ভয় নেই, আমি পুলিশের কেউ না, বলেন, একটু শুনি’- এ কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করার পর বলেন, ‘ওই শুনছি আরকি, হিন্দুরা বলে মসজিদ ভাইঙ্গা ফালাইছে, এইজন্য নাকি মুসলমানরা মন্দির ভাংছে’।
রেশমাকে প্রশ্ন করা হয়- এই কথা কী আপনার বিশ্বাস হয়? তিনি বলেন, বিশ্বাস কী হয়? হিন্দুরা মসজিদ ভাংব এইটা তো বিশ্বাস হয় না। নিশ্চই কোনো ঝামেলা বা চক্রান্ত আছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: