টিসিবির ‘ট্রাক সেল’ শুরু

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ মে: রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য ছোলা-চিনিসহ চার পদ নিয়েই নগরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেল শুরু হয়েছে। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ভালো পণ্য সরবরাহ করায় প্রথম দিনেই টিসিবির পণ্যের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সুজাউদদৌলা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৯ মে আমরা ১০জন ডিলারের মাধ্যমে ১০টি ট্রাক নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাঠিয়েছি। পয়েন্টগুলো হচ্ছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কাস্টম মোড়, টাইগারপাস মোড়, আগ্রাবাদ জাতিতাতিত্ত্বক জাদুঘর, সিজিও বিল্ডিং গেট, অলংকার মোড়, নাসিরাবাদ (পূর্বকোণ অফিস), ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জামালখানের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এবং ইপিজেড মোড়। সকাল ১০টার পর ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরপরই ডিলাররা পণ্য বোঝাই করে একে একে নির্ধারিত পয়েন্টে চলে গেছে। 123
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ট্রাকে ভোক্তারা ৭০ টাকায় প্রতিকেজি ছোলা, ৪৮ টাকায় চিনি, ৯০ টাকায় মশুর ডাল এবং ৮০ টাকায় পেট বোতলে সয়াবিন কিনতে পারবেন। আমাদের কাছে প্রচুর পণ্য মজুদ আছে। তাই হুড়োহুড়ি না করে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে যে কেউ পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ট্রাক সেলের জন্যে ডিলাররা টিসিবির কাছ থেকে প্রতিকেজি চিনি ৪৩ দশমিক ৫০ টাকা, ডাল ৮৫ দশমিক ৪৫ টাকা, ছোলা ৬৫ দশমিক ৫০ টাকা এবং সয়াবিন ৭৫ দশমিক ৫০ টাকায় কিনছেন।
টিসিবির প্রধান কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা (মুখপাত্র) মো. হুমায়ুন কবির শুক্রবার দুপুরে বলেন, ২৯ মে থেকে সারা দেশে ১৭৯টি ট্রাকে টিসিবি ছোলা, দেশি চিনি, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল (পেট বোতল) ও খেজুর বিক্রি করবে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২টি ট্রাক, চট্টগ্রাম ১০টি, অন্য বিভাগীয় শহরে ৫টি ও জেলা সদরে ২টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি হবে। একেকটি ট্রাকে ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, ১৫০-২০০ কেজি ডাল, ৩০০-৪০০ লিটার তেল, ৪০০-৮০০ কেজি ছোলা ও ৫০ কেজি করে খেজুর থাকবে।
তিনি জানান, একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন, ৫ কেজি ছোলা ও ১ কেজি খেজুর কিনতে পারবেন ট্রাক থেকে। এবার রমজান উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া থেকে টিসিবি ১ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন উন্নতমানের ছোলা আমদানি করেছে। ইতিমধ্যে সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রির জন্যে সারা দেশে পৌঁছে গেছে।
মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের গুদামে পুরোনো কোনো ছোলা মজুদ নেই। রমজানের আগেই আমদানি করা হয় এবং রমজানেই সব বিক্রি হয়ে যায়। একেবারে ফ্রেশ অস্ট্রেলিয়ান ছোলাই পাচ্ছেন ভোক্তারা। তেমনি অন্য পণ্যগুলোর মানও বেশ ভালো।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘খেজুর সংগ্রহের জন্যে আমরা পাঁচবার দরপত্র আহ্বান করেছি। কেউ অংশগ্রহণ করেনি। তাই স্থানীয় বাজার থেকে কিনেই ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে চট্টগ্রামে টিসিবি এখনো ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর বিক্রি শুরু করেনি।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনের পয়েন্টে ট্রাক সেলের দায়িত্বে আছেন এ এস এন্টারপ্রাইজের মো. আলাউদ্দিন। বেলা ১১টায় তিনি বলেন, টিসিবি থেকে ট্রাকে পণ্য বোঝাই করে রওনা দিয়েছি। ছোলাসহ অন্যান্য পণ্যগুলো খুবই ভালো মানে পড়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারবো।

Leave a Reply

%d bloggers like this: