টানা অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবীরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : টানা অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবীরা, যারা রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। কিন্তু তারপরেও তারা ক্ষুব্ধ। তাদের ক্ষোভ যারা দেশ চালান তাদের ওপর। Labourতাদের সাফ কথা রাজনৈতিক সংঘাত হতে পারে নেতাকর্মীদের মধ্যে, রাজপথে। সেজন্য কেন সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে। কেন জীবন আর সম্পদ নিয়ে শঙ্কিত হতে হবে। তারা যদি দেশের মালিকই হয়ে থাকে, তাহলে দেশের সম্পদ আর তাদের জীবন নিয়ে কেন এত খেলা করা হচ্ছে। তরুণদের ক্ষোভ আরো বেশি। তারা রাজনীতিকেই ঘৃণা করতে শুরু করেছে। তারা ভোট দেয়া থেকেও বিরত থাকতে চায়। যা একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। অবরোধে জনপ্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম শহরের একজন শ্রমজীবি মানুষ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘গদি নিয়ে নাজায় নাজায় যুজ্জু হবে, আর আমাগের না খাইয়ে মরতি হবে, ইডা কুনু কতা হইলো।’ শহরতলী সাবানঘাটা পাড়ার বাসিন্দা টেক্সীচালক জবেদ বলেন,‘ অ্যারাম করে দিনির পর দিন অবরোধ হলি গ্রামের লোক টাওনে আসে না। টাওনে না Copiআসলি টেকসি ভাড়াও হয় না। বউ ছেলে পিলে নিয়ে না খাইয়ে মরার দশা।’ ভ্যানচালক মোমিন রোড়ের মুহিবুল্লাহ বলেন,‘ গ্যালো কুড়ি দিন গাড়ির চাকা ঘুরিনি। ধার দিনা করে সুংসার চালাচ্চিলাম। কিন্তু, দুকানদার আর বাকি দিতি চাচ্চে না।’ বিশিষ্ট আইনজীবী ইব্রাহিম কুতুবী বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সেই জনগণ আজ ভালো নেই। এই বিষয়টি আমাদের নেতা-নেত্রীদের ভাবার সময় এসেছে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেয়া এখন সময়ের দাবি।’ বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেছেন, ‘আমাদের কতা হইলো, আমরা হচ্চি সাধারণ নাগরিক, এত প্যাঁচগোজ বুজিনে। ভাইরে, হরতাল-অবরোধ আমিলিগ-বিম্পি যেই খমতায় আসুক না কেনে সবাই দেপে। ও নিয়ে ভাবতি আর ভাল্লাগেনা। শুধু এট্টুকু বুলতি পারি, দেশে যা হচ্চে তার পরিনাম খুব খারাপ হবে মনে হচ্চে। ইভাবে দেশ চলতি পারে না।’ দোহাজারী উপশহরের একজন সবজি চাষী আছহাব উদ্দিন বলেন, ‘দুই বিগে জমিতি পাতা কপি লাগিয়েলাম, খরজ হয়েলো ১২ হাজার টেকা। অবরোধে চট্টগ্রাম মাল
bas পাটাতি পারিনি। দোহাজারী হাটে দাম পাইনি। এবেড্ডা আমার কী হবে? ভুঁইতিই সব কপি ফুঁটে যাচ্চে। এরাম ঝামিলিই আর কুনুদিন পড়িনি। খুব বিপদ হই গেল।’ শহরের শিল্পকলা একাডেমির সামনে দীর্ঘ দিন ধরে চা বিক্রি করে আসছেন বুচু সওদগার। তার সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় লোক না থাকলি নিজি চা বানিয়ে খাব? টিভিতি জেইভাবে বাস-ট্রাকে আগুন দিয়া দেকচি আর তাতে যেইভাবে মানুষ পোড়চে, দুকান বন্দ করে বাড়ি গিয়ে ভাত খাতিচ্চে করে না রে দাদা। চা পাতি, দুদ, আকার খড়ি সব জিনিসির দাম বেড়েচে। জানিনে (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) সামনের দিনগুলুতি কী হতি যাচ্চে।’ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পড়ুয়া তুমহার সঙ্গে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যে ধরনের সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে আগামীতে আদৌ কাউকে ভোট দিতে যাব কী না তাই ভাবছি।’ পাল্টা প্রশ্ন করা হল। মানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা বলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘আই হেইট পলিটিক্স নাউ, সো ভোট দিলে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের যে কোনো একটা দল তো ক্ষমতায় আসবে, তাই না? এরা দুটোই সমান। তাই নিজের মনকে তো শান্তনা দিতে পারবো। জানি, একটা ভোট ওদের জন্য ব্যাপার না।

Leave a Reply

%d bloggers like this: