টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ, আহত ১০

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। 1এতে সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এসময় লাঞ্ছিত হয়েছেন টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল বাতেনসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান মেনু। এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা নবীনসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। প্রায় এক যুগ পর (৪ মে) সোমবার দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপই অনড় অবস্থানে ছিল। ফলে বড় ধরনের অনাকাক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও ছিল। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা সম্মেলনে আসতে থাকেন। এদিকে পূর্বের উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকের অনুসারীরাও সমাবেশে আসতে থাকেন। এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান মেনুর বক্তব্যের পর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার সময় আলমগীর খান মেনু ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম শিবলী সাদিকের গাড়ি ভাঙচুর ও তারা লাঞ্ছিত হন। এসময় উভয় গ্রুপের লোকজনই লাঠিসোটা নিয়ে দফায় দফায় প্রতিপক্ষকে দাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে। পরে পুলিশ হেফাজতে এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান মেনুকে পৌঁছে দেয়। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক জানান, অগণতান্ত্রিকভাবে এমপি সমর্থিতরা নতুন কমিটি করতে চেয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত হয়ে সকাল নয়টার দিকে কেন্দ্র থেকেই সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন। মূলত মঞ্চে এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান মেনুর উস্কানিমূলক বক্তবের কারণের সংঘর্ষ বাধতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি আরো বলেন, মঞ্চে এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেন বলেন, আমি মুষ্টিমেয় লোক নিয়ে সমাবেশে এসেছি। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটাই যথেষ্ট। এদিকে দু-টি গ্রুপ থাকার পরও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর খান মেনু এমপির হাতকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। এ ব্যাপরে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. চান মিয়া সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই বর্তমান সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকের নেতৃত্বে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি করে উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেনের ঘনিষ্ঠরা এই কমিটির বিরোধিতা করেন। পরে তারা নতুন করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি করেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম সিদ্দিকী ও এম. শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে আজ সোমবার উপজেলা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এদিকে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাচ্ছেন তাদের গঠিত ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি দিয়েই উপজেলা কমিটি গঠন করতে হবে। এভাবে অন্তর্দ্বন্দ্বে নিজেদের অস্তিত্ব হারাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরার। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ৭২টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি দুইটি করে কমিটি বর্তমানে চলমান ছিল।বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মেয়াদোত্তীর্ণ ৭২টি ওয়ার্ড ও ৮টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিলে বাধ সাধে স্থানীয় সংসদ সদস্য সমর্থিত দলের একটি অংশ। তারা জেলা কমিটির মাধ্যমে ১১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেন। স্থানীয় এমপি সমর্থিত কমিটির দুই জন যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল কালাম সিদ্দিকী ও এম শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে নতুন করে আবার ৭২টি ওয়ার্ড ও ৮ টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দায়ী নয়। সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*