জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি সাংবাদিকদের এমনটিই জানিয়েছেন। তবে জিডিপি এই প্রবৃদ্ধির গণনা নিয়ে সন্দেহ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সিপিডি আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ সন্দেহ প্রকাশ করেন। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি গণনার সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে দেখছি প্রবৃদ্ধিনির্ভর অর্থনৈতিক আলোচনা। কেমন একটা প্রবৃদ্ধি আচ্ছন্নতা বা আকৃষ্টতা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। অথচ অর্থনৈতিক তত্ত্বের সাম্প্রতিককালের চিন্তা দেখলে দেখা যাবে– সকলেই বলবে প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট না। এটা অর্থনীতি শাস্ত্রের দ্বৈজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’
এ সময় দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি দেখছি তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উচ্চ প্রশংসনীয় এবং অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। তবে যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তাতে ব্যক্তিখাতের বাড়তি কোনও ভূমিকা আমরা দেখিনি। এই উন্নয়নের জন্য যে ধরনের কর আহরণ দরকার তা আমরা দেখলাম না। ব্যক্তিখাতে যে ধরনের ঋণপ্রবাহ বাড়ার কথা তাও আমরা দেখলাম না। পুঁজি পণ্যের আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ধরনের চাঞ্চল্য থাকে তাও দেখলাম না। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে ধরনের চলক থাকে, সে চলকগুলোর প্রতিফলন কিন্তু আমাদের কাছে ধরা পড়ছে না।’
প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা ধরি যে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হয়েছে, তাহলে বিনিয়োগ বাড়ার কথা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়েনি। যেহেতু বিনিয়োগ বেশি হয়নি, সুতরাং প্রবৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দেখাতে হবে। এবার দেখতে হবে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমন কী প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনীর রূপান্তর ঘটলো যে শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা এমন বৈপ্লবিকভাবে বেড়ে গেল? এটা আমাদের এখন ভালো করে চিন্তা করে দেখতে হবে। শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা যদি বাড়তোই তাহলে, শ্রমিকের জীবন মানও বাড়তো। কিন্তু বাস্তবে কি হয়েছে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রবৃদ্ধির অনুমিতি সঠিক হোক এবং সেটা থেকে যে ধরনের তাৎপর্য আসে সেটা যেন বাংলাদেশের নীতিকে সঠিকভাবে আগামী দিনে পরিচালিত করে। নীতিকে যেন বিভ্রান্ত না হয় কোনও ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চলনায় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন– প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*