জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উন্নয়নে রবিবার সকাল থেকে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে তিনটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর‌্যন্ত শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টার ও শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নূরুজ্জামান মারা যান। এ ঘটনায় রবিবার সকাল ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন চত্বরে মৃৎ মঞ্চে নূরুজ্জামানের প্রতি শোক প্রকাশ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পাশাপাশি গান-বাজনা বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়।
চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, নুরুজ্জামানের মৃত্যুর তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবন সম্প্রসারণ করতে হবে। সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা দিতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্যাথলজি বিভাগের উন্নয়ন করতে হবে। অভিজ্ঞ ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করতে হবে। রোগীকে বাইরের হাসপাতালে হস্তান্তর করলে তার ব্যয়ভার প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে নুরুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. তরিকুল ইসলাম তাকে গ্যাস্ট্রিকের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এতে ব্যথা না কমলে তাকে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতে সোয়া নয়টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হরনাথ সরকার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট থেকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ইনামুর রশিদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বারবার রোগীকে এনাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছি। ‘লোক আসছে’ বলে তার বান্ধবী কালক্ষেপন করেছে। রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে গেলে রাত নয়টার পরে তাকে জোরপূর্বক এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।’
উপাচার্য নূরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক শামছুর রহমান তাদের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘২০০০ সালে চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল আটজন, এখন সাতজন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভাইজার কমিটির মিটিং দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। ফলে নতুন নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধের কোন সুরাহা হচ্ছে না।’
শিক্ষার্থীরা ইসিজি মেশিনের দাবি করলে তিনি বলেন, ‘এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কোন পদ নেই। ইসিজি মেশিনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টিকনিশিয়ান প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*