জাম্বুরি মাঠের ওয়াজ মাহফিলের উদ্বোধনী বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, সমাজ ও মানবতা যখন পাপাচার ও গোনাহের অন্ধকারে ডুবে যায় তখনই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের পাঠিয়ে অল্লাহ মানুষদের হেদায়ত ও আলোর পথ দেখিয়েছেন। শেষ যুগে মহানবী বিশ্বনবী Waz Mahfil 22-01-2015আকায়ে নামদার হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর পর আর কোনো নবী আগমন করবেন না। আজকে মহানবী (সা.)-এর অবর্তমানে তাঁর পবিত্র দায়িত্ব ও উত্তরসূরির ভূমিকা রাখছেন হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম। সোনার ও বিশুদ্ধচারী মানুষ হিসেবে তৈরি হতে হলে হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ের কেরামের সান্নিধ্য লাভ করে মহান আল্লাহতাআলার প্রকৃত সন্ধান এবং রাসুলের জীবনাদর্শের অনুসরণ করতে হবে। আজ বাদ যোহর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিনব্যাপী (২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি) বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের উদ্বোধনী বয়ানে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই উপরোক্ত কথা বলেন। পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও মানুষের স্বভাববান্ধব জীবনব্যবস্থা। ইসলামে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ বিশ্বমানবতার চারিত্রিক, অবকাঠামো ও প্রাযুক্তিক উন্নয়নের দিক নির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবেও ন্যায়-ইনসাফ ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে। সমাজে ইসলামি জীবনাদর্শের বাস্তব অনুসরণ করা হলে সমাজ থেকে সকল পাপাচার, অন্যায় অসত্য, দুর্নীতি দূর হয়ে একটি পরিশুদ্ধ মানবদরদি ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে। আজ (২২ জানুয়ারি) থেকে আর্ত-সামাজিক আধ্যাত্মিক ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের নমুনায় বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির শুরু হয়েছে। চরমোনাই মাহফিলের ঐতিহ্য অনুসারে এই মাহফিলের প্রথম দিবসে মারিফত, দ্বিতীয় দিন শরিয়ত এবং তৃতীয় দিন আর্ত-সামাজিক বিষয়ে পীর সাহেব চরমোনাইসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করবেন। মাহফিলে প্রধান অতিথি পীর সাহেব চরমোনাই ফজর ও মাগরিবের পর দিনে দুটো করে মোট সাতটি বয়ান পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ। এবারের মাহফিলেও অন্যান্যবারের মতো পর্দানশীন মা-বোনদের জন্য পর্দাসহকারে ওয়াজ ও নসিহত শোনার জন্য পৃথক বিশাল প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের মধ্যে বয়ান পেশ করেন, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, জামিয়া নাছিরুল ইসলাম ফতহপুরের মুহতামিম হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ ইসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়র, হযরত মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, হযরত মাওলানা শেখ আমজাদ হুসাইন, হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী প্রমুখ। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম জেলা সদর (সভাপতি) অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্¥দ রফিক ও সেক্রেটারি আলহাজ আলী আকবর দ্বিতীয় দিনের মাহফিলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিম এবং মুহরমসহকারে মুসলিম মা-বোনদের মাহফিলে অংশ নিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: