জাম্বুরি মাঠের ওয়াজ মাহফিলের জুমাপূর্ব বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারী: আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, মানুষের প্রকৃতি islamiহচ্ছে, চরিত্র, খোদাভীতি ও আমল-আখলাক। যার চরিত্র ভালো, আল্লাহ ও আকায়ে নামদার সরদারে দোজাহান হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতি-আদর্শ মেনে জীবন যাপন করেন তিনি ফেরেশতাকুলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আর যদি কারো চরিত্রে দোষ থাকে, কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিপথগামী হয়, সন্ত্রাস, দুর্নীতি-চুরি-ডাকাতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুট বা অপচয় করে ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তারা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। ফেরেশতা ও পশুকুলকে আকল (বিবেক) ও এখতেয়ার দেওয়া হয়নি, তারা আল্লাহর নির্দিষ্ট হুকুম যথানিয়মে পালনে বাধ্য। কিন্তু মানুষকে আকল ও এখতেয়ার দুইটাই দেওয়া হয়েছে। যেসব মানুষ এই আকল ও এখতেয়ারকে ভালো কাজে লাগাতে পেরেছে তারা ফেরেশতাকুলের চেয়েও সেরা, যদি ব্যর্থ হয় তবে তারা পশুকুলের চেয়েও নিকৃষ্ট। আজ (২৯ জানুয়ারি’১৬, শুক্রবার) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিনব্যাপী (২৮, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি) বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের জুমাপূর্ব বয়ানে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা সাইয়েদ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই উপরোক্ত কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, শয়তান দুই প্রকার; কিছু শয়তান জিন আর কিছু শয়তান আছে মানুষ। জিন শয়তান মানুষের হৃদয়ে বাসা বাঁধে এবং মানুষকে প্ররোচনা দিয়ে সর্বপ্রকার অপরাধে জড়িয়ে দেয়। এসব জিন শয়তান থেকে বাঁচতে হলে আল্লাহ পাকের জিকিরই হচ্ছে মহৌষধ। আল্লাহর জিকিরে মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি আসে, শয়তান বিতাড়িত হয়, হৃদয় কালিমামুক্ত হয়। পীর সাহেব চরমোনাই সৎ, খোদাভীরু ব্যক্তিবর্গ, ওলামা-মাশায়েখ ও বুযুর্গানে দীনের সোহবত অর্জনের প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নাস্তিক-মুরতাদরা হচ্ছে মানুষ শয়তানের দল। শয়তান এসব খোদাদ্রোহী নাস্তিক-মুরতাদদের মানুষ্য রূপ ধারণ করে মুসলমানদের বিপথগামী করছে। মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ও বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ৯০% মুসলমানের এই বাংলাদেশে এসব নাস্তিক-মুরতাদদের প্রতিরোধ করতে হলে ঈমানদার সকল মুসলমানকে ইসলামের পতকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আলেম-ওলামা ও হক্কানি পীর-মাশায়েখের সোহবতে থাকতে হবে। অন্যথায় শকুনের কালো থাবা মুসলমানদের গিলে খেয়ে পেলবে বলে হুশিয়ারি দেন পীর সাহেব চরমোনাই।
২৮ জানুয়ারি’১৬ থেকে আর্ত-সামাজিক আধ্যাত্মিক ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিনব্যাপী (২৮, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের নমুনায় বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির শুরু হয়েছে। এতে অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখের মাঝে বয়ান পেশ করেছেন, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর প্রবীণ মুহাদ্দিস হযরতুল আল্লামা মমতাজুল করীম (বাবা হুযুর), হযরতুল আল্লামা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, খলীফায়ে চরমোনাই হযরত মাওলানা আবদুল আউওয়াল, হযরত মাওলানা আবদুল মজীদ, হযরত মাওলানা নুরুল হুদা ফয়জী, হযরত মাওলানা নুরুল করীম বেলালী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম।
হযরতুল আল্লামা মমতাজুল করীম (বাবা হুযুর) বলেন, সব হাদীস সুন্নত নয়, কিন্তু সব সুন্নতই হচ্ছে হাদীস। মহানবী (সা.) বলেছেন, তার কওমের ৭৩ ফেরকা হবে, এক ফেরকাই তার মধ্যে জান্নাতী; তারা হলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। কিন্তু এখন শুনছি আহলে হাদীসের কথা, তারা সুন্নতের অনুসারী নয়, হাদীসের অনুসারী। যেহেতু সব হাদীস সুন্নত নয়, সুতরাং আহলে হাদীসও আহলে সুন্নত নয়। এটা একটি ফেতনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*