জামায়াত নেতা মুজাহিদের আপিল আবেদনের শুনানি শেষ পর্যায়ে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের আপিল আবেদনের শুনানি শেষ পর্যায়ে। এই অবস্থায় এই নেতার মামলা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দলের কর্মী jiসমর্থকদের মধ্যে। নানা অপরাধে এর আগেও ফাঁসি কার্যকর হয় জামায়াত নেতা মুহম্মদ কামারুজ্জামান এবং আবদুল কাদের মোল্লার। বিশেষ করে কাদের মোল্লার দণ্ড কার্যকরের আগে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তাদের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলাতে পারবে না সরকার। রায় কার্যকর করার আগে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপারও তৈরি করেছিল দলটির কর্মী-সমর্থকরা। তবে সময়ের পরিক্রমায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথিত প্রতিরোধের স্পৃহা উবে গেছে আর পরিণতির জন্য অপেক্ষা করে থাকা ছাড়া আর গত্যন্তর দেখছে না তারা। মুজাহিদের আপিল শুনানী চলতি মাসেই শেষ হওয়ার আশা করছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। রায় ঘোষণায় ট্রাইব্যুনালের দণ্ড বহাল থাকলে কিছু ধাপ পার করে তা কার্যকর হবে। রায় কী হবে তা জানা না থাকলেও আগে দুই শীর্ষস্থানীয় নেতার ফাঁসি কার্যকরের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জামায়াত কর্মীরা। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে মুজাহিদের আপিল শুনানি গতকাল সোমবার সপ্তম দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৯ এপ্রিল এ আপিল শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ছয় কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনালের রায় ও মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র (পেপারবুক) পাঠ শেষ করে আসামিপক্ষ। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “মুজাহিদের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র্রপক্ষ আপিল করেনি। তবে আপিলে আসামিপক্ষের শুনানির বিপরীতে রায় বহাল রাখার পক্ষে আর্জি পেশ করে যুক্তি উপস্থাপন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন মুজাহিদ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি ট্রাইব্যুনালে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*