জানুয়ারিতে খুলনা-কলকাতা সরাসরি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার :
আগামী জানুয়ারি মাস থেকে খুলনা-কলকাতা সরাসরি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করবে। এই মৈত্রী ট্রেনের সব কোচই এসি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবি ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে খুলনা-কলকাতা মৈত্রী ট্রেন চালানোর জন্য দুদেশ একমত হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জানুয়ারি এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এ রুটের চারটি মৈত্রী এক্সপ্রেসের সবগুলো কামরাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ রেলের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সাতটি বগি নিয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে। এসি/ননএসি মিলিয়ে এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪১০ জন। জানুয়ারি থেকে দশ বগি নিয়ে ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হয়ে। যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকবে ৫০০ জন।
ব্রিটিশ শাসনামলে খুলনা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হয়। ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পরও এ রেল যোগাযোগ বহাল ছিল। যাত্রী সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে রেলের মধ্যেই ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সারা হতো। বাড়তি কোনো সময় ব্যয় হতো না। যাত্রীরা দ্রুততার সঙ্গে গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে খুলনা-কলকাতার মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।download-2
ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসে ইমিগ্রেশন-কাস্টমস ব্যবস্থার অভাবে যাত্রীদের ঘণ্টা তিনেক অযথা ব্যয় হয়ে যায়। এ নিয়ে যাত্রী অসন্তোষ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের মধ্যেই রেলেই ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সম্পূর্ণ করার চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।
যাত্রীদের দাবির মুখে একমাস আগে গত নভেম্বরে ঢাকা-কলকাতা রুটে সপ্তাহে চার দিন মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। ১১ নভেম্বর সকালে ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতা-ঢাকা চতুর্থ মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রার সূচনা করেন। অন্যদিকে ১২ নভেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে চতুর্থ মৈত্রী এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। চতুর্থ মৈত্রী এক্সপ্রেসটি প্রতি শুক্রবার কলকাতা থেকে ও শনিবার ঢাকা থেকে চলছে। বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে প্রতি সপ্তাহের বুধ, শুক্র ও রোববার কলকাতার চিৎপুর স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর শনি, সোম ও মঙ্গলবার সকালে কলকাতা থেকে ছেড়ে যায় ঢাকার গন্তব্যে।
উভয় দেশে বেশ ঘটা করেই ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। দিনে দিনে মৈত্রীতে আশাতীত যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদার দিনে অনেক সময় টিকিট পান না যাত্রীরা। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের টিকিট পক্ষকালের আগে পাওয়া যায় না। সেজন্য যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই সপ্তাহে ছয়দিন মৈত্রী চালানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এখন প্রতি মৈত্রী এক্সপ্রেস থেকে বাংলাদেশ দুই কোটি টাকা আয় করে। অর্থাৎ চার মৈত্রী এক্সপ্রেস থেকে বাংলাদেশের আয় হবে আট কোটি টাকা। এ আয়ে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*