জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অকৃতকার্য হয়ে উল্টো ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ জুন ২০১৭, বৃহস্পতিবার: সিনথিয়া আক্তার। নরসিংদী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শ্রেণির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় তিনি পেয়েছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে পান প্রথম শ্রেণি। কিন্তু চতুর্থ বর্ষের (অনার্স ফাইনাল) পরীক্ষার ফলে দেখা যায়, সেই সিনথিয়াই ফেল (অকৃতকার্য) করেছেন! ২০১৫ সালের ওই ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ১৪ মে। সিনথিয়া একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁর নাম প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট। সিনথিয়ার দাবি, পরীক্ষা ভালো দিয়েছিলেন তিনি। ফাইনাল পরীক্ষাতেও প্রথম শ্রেণি পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু প্রথম শ্রেণি তো দূরের কথা অকৃতকার্য হয়ে উল্টো ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
মো. আনিসুর রহমানও  নরসিংদী সরকারী কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র। ২০১৫ সালের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানতে পারেন, তিনিও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ফেল করেছেন। অথচ বিগত বছরের পরীক্ষাগুলোতে তিনি অনেক ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করেছেন। তাঁরও দাবি, এই পরীক্ষায় তাঁর কোনোভাবেই ফেল হওয়ার কথা নয়।
শুধু সিনথিয়া বা আনিসুর নন, নরসিংদী সরকারি কলেজের ৪৯ জন শিক্ষার্থী প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এমনকি দেখা গেছে, একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের কিছু কিছু কক্ষের সব শিক্ষার্থীই এই বিষয়ে ফেল করেছেন।
আর শুধু নরসিংদী সরকারি কলেজই নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সারা দেশের আরো বেশ কিছু কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একইরকম ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঢালাওভাবে ফেল করানোর অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভুল করে অথবা অনাকাক্সিক্ষতভাবে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে তাদের ফেল করানো হয়েছে। তাই ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের রোল নম্বরগুলো খেয়াল করলে দেখা যায়, সিরিয়াল ধরে সবাই ফেল করেছেন।
এমন ঘটনার পর প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে তাঁদের মনে নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। সে কারণে তাঁরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তাঁদের বলেছেন, খাতা নিরীক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ফি জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে আবার নতুন করে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছেন না যে, খাতা নিরীক্ষণের ফলের জন্য অপেক্ষা করবেন, নাকি নতুন করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবেন?
এক কক্ষের সবাই ফেল
সিনথিয়া বলেন, ‘নরসিংদী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ২১৩ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ফেল করেছে ৪৯ জন ছাত্রছাত্রী । দুঃখজনক কথা হচ্ছে, যে বিষয়ে ফেল করেছি সে বিষয়ে ফেল করার কথা নয়। আমরা তিন বছর শেষ করে এসেছি এই তিন বছরেই আমাদের ফলাফল ফার্স্ট ক্লাস। আমাদের সে বিষয়টি হচ্ছে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, একটা কক্ষে আমরা ১৭ জন বা ১৮ জন পরীক্ষা দিয়েছি সিরিয়ালি। সে সিরিয়াল থেকে ১৮ জনই ফেল। আমি ধরলাম, আমি না হয় ভালো ছাত্রী না, আমি ফেল করলাম। কিন্তু আমার পাশের জনও কেন ফেল করল? ধরলাম স্যার খুব ভালো খাতা দেখেন, আমি লিখতে পারি নাই এ জন্য আমাকে ফেল করে দিলেন। কিন্তু একটা ছাত্রছাত্রীও কি এমন লেখা লেখে নাই যে তার ডি (পাস) পাওয়ার যোগ্যতা থাকল না?’
সিনথিয়া আরো জানান, খাতা নিরীক্ষণের আবেদন করার পর ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল দেওয়া হবে বলে সে সময় তাঁদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অপেক্ষার প্রহর এক মাস ছাড়িয়েছে। এখনো ফলের দেখা পাননি তাঁরা। এর পর ফরম ফিলাপের তারিখ ঘোষণা হলে আবারও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে যান তাঁরা।
‘আমরা দেখা করে বললাম স্যার আমাদের ফরম ফিলাপের তারিখ দিয়ে দিয়েছে এখন আমরা কী করব? আপনি তো আমাদের রেজাল্ট দেন নাই। তিনি আমাদের বললেন যে, এটা সম্ভব না, আমি রোজা রেখে মিথ্যা বলতে পারব না, আমাদের ডিপার্টমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, খুলবে তিন তারিখ। তোমাদের কার্যক্রম এখনো শুরু হয় নাই। অতএব আমি কীভাবে তোমাদের রেজাল্ট দেব?,’ বলেন সিনথিয়া।
নরসিংদী সরকারি কলেজের আরেক শিক্ষার্থী আনিসুর বলেন, এ ঘটনার পর তাঁদের শিক্ষকরা বোর্ডে যোগাযোগ করলে তাঁদেরও খাতা নিরীক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
আনিসুর বলেন, ‘কিছু দিন পর আমরা দেখলাম, তারা (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) আমাদের ফরম ফিলআপের (পূরণ) তারিখ দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ফলাফল প্রকাশ করে নাই। এর পর আমরা আবার আমরা বোর্ডে গেলাম যে আমরা কী করব। তাঁরা বলছে, আমাদের কিছু করার নাই।’
‘আমরা বলেছিলাম যে, আমাদের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হোক, কিন্তু তাঁরা তা করবে না, তাঁরা নিরীক্ষণ করবে। নিরীক্ষণ মানে তাঁরা আমাদের খাতার নম্বরগুলো আবার ১,২,৩ এর মতো গণনা করবে। কিন্তু আমরা চাচ্ছি, আমাদের খাতাগুলো যেন তাঁরা সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করে। কিন্তু তাঁরা আমাদের এই সুযোগটা দিতে নারাজ। ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও আমাদের ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পুরো অনিশ্চয়তার মধ্যে আমাদের জীবন চলছে। আমরা বাড়িতে বলতে পারছি না, আমরা পাস করেছি নাকি ফেল করেছি, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতেও পারছি না,’ বলেন আনিসুর।
ফলাফলের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর এই রকম সমস্যা নিয়ে কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা, নারায়ণগঞ্জ কলেজ, আন্দন মোহন কলেজ, ভাওয়াল কলেজসহ অনেক কলেজের শিক্ষার্থীদের সেখানে আসতে দেখেছেন বলে জানান সিনথিয়া ও আনিসুর। সবারই এক সমস্যা। সেখানকার এক নিরাপত্তা প্রহরী তাঁদের জানিয়েছেন, এই সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী সেখানে যান।
দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টই নয়, রিসার্চ মেথডোলজি, ব্যবসায়িক সংগঠনের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
একই পরিস্থিতির শিকার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশ গ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. সবুজ মিয়া। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ফাইনাল পরীক্ষায় ব্যবসায়িক সংগঠন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন তিনি। যে বিষয়গুলোতে গাণিতিক সমস্যা ছিল সেগুলোতে সহজে পাস করে গেলেও এত সাধারণ একটা বিষয়ে পাস করতে পারবেন না তা ভাবতেই পারছেন না তিনি।
খাতা নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল পাননি বলে জানান সবুজ।
সব ফেলই এক বিষয়ে
কুষ্টিয়া ভেড়ামারা কলেজের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ জানান, হিসাব বিজ্ঞান চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার ফলে দেখা যায় তিনি রিসার্চ মেথডলজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আমার অনেক বিষয়ে অঙ্ক রয়েছে। সেগুলোতে আমি পাস করেছি অথচ যে বিষয়ে থিওরি পরীক্ষা হয়, তাতে ফেল করেছি যেটা একেবারে অসম্ভব। আমার পরীক্ষার সময় দুইটি বিষয়ের পরীক্ষা একটু খারাপ হয়েছিল, কিন্তু সেই দুই বিষয়ে আমি বি প্লাস পেয়ে পাস করেছি। আর যে বিষয়ে অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছি সেটাতে ফেল করেছি। তাই এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত ফলাফল দেওয়া হয় নাই।’
কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের নাইম  জানান, তিনিও রিসার্চ মেথডোলজিতে ফেল করেছেন।  কিন্তু ফেল করার মতো পরীক্ষা দেননি তিনি। আগেও কখনো কোনো বিষয়ে ফেল করেননি।
নাইম বলেন, ‘মজার ব্যাপার হল, হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষার দিনে প্রায় ৪৮ মিনিট আমার খাতা পরীক্ষার হলে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল, অন্য একজনকে দেখাচ্ছিলাম বলে। কিন্তু সেই বিষয়েও আমি পাস করেছি। আমাদের কলেজ থেকে ২৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ফেল করেছে একই বিষয়ে। আমরা বোর্ডে গিয়েছিল, এর মধ্যে আমাদের ফরম ফিলাপের তারিখ দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে আমাদের ফরম ফিলাপ করতে হবে। ফলাফল প্রকাশ হবার পর যদি পাস করি বা ফেল করি তবে পরবর্তীতে ইচ্ছা হলে পরীক্ষা দিতে পারবো। ‘
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের জুবেল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, তাঁদের কলেজ থেকে ৬৯ জন পরীক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু এর মধ্যে ৩৪ জন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন জানালেও এখনো তা হাতে পাননি।
এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশের অনেক কলেজেই একই অবস্থা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২১ জন শিক্ষার্থী প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ফেল করেছে।
কলেজটির শিক্ষার্থী রিফাত চৌধুরী বলেন, ‘আমার সবগুলো বিষয়ে ভালো ফলাফল এসেছে শুধু মাত্র এই প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ফেল এসেছে। যা আমি কখনো ভাবতেও পারি নাই। এই বিষয়ে যদি আমার কোন মতে পাস আসতো তবে আমার ফলাফল ফার্স্ট ক্লাস হত। আমরা একই সাথে ২১ জন এই বিষয়ে ফেল করেছি যা খুবই অদ্ভুত। ফলাফল প্রকাশ হয়বার পর আমরা কলেজের শিক্ষকদের সযোগিতায় বোর্ডে গিয়ে আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত ফলাফল দেওয়া হয় নাই, কবে দিবে সেটাও জানি না।’
নারায়ণগঞ্জের কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বোর্ডে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফলাফল পাই নি। বিষয়টি গত মাসে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে লিখিত ভাবে জানানও হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনার একটি কলেজের শিক্ষক বলেন, ‘আমি নিজে বোর্ডে গিয়েছিলাম আমার কিছু স্টুডেন্টদের এমন সমস্যার বিষয়ে জানতে। তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডে ডেপুটি কন্ট্রোলার আমাকে বলেছিল, আপনি ছাত্র ছাত্রীদের একটা তালিকা আমার কাছে দেন, আগামী ১০ তারিখের মধ্যে আশা করি একটা ভালো ফলাফল পাবেন।’
এই শিক্ষক আরো জানান, ফলাফলের এই সমস্য দেশের বিভিন্ন কলেজে হয়েছে। বোর্ডে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বরিশালের একটি কলেজের সব শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
‘ছাত্ররা ভাবে ভালো, আসলে ভালো হয় না’
সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জমান কাছে। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ফলাফল প্রকাশের পর এমন অনেক অভিযোগ আসে, সব সময়ই আসে। এতগুলো স্টুডেন্টকে ফেল করানোর পেছনে তো আমাদের কোন কারণ নাই। পরীক্ষার পর কে কোন কলেজের স্টুডেন্ট সেটাও আমরা জানি না। আমি যদি চাইও একটা ছেলে কে ফেল করিয়ে দেব তাঁর কোন সুযোগ নেই।’
প্রজেক্ট ম্যাজেমেন্ট বিষয়ে জানতে চাইলে বদরুজ্জামান বলেন, ‘প্রজেক্ট ম্যাজেমেন্ট বিষয়ে আসলে অংক থাকে তো তাই, অনেক স্টুডেন্ট এই বিষয়ে খারাপ করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই ক্লাস কম হয়। ছাত্ররা ভাবে ভালো পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু আসলে ভালো পরীক্ষা হয় না।’
তবে ফেল করার পরেও অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রথম শ্রেণি কিভাবে হতে পারে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এমন অনেক স্টুডেন্ট আছে। যে সকল স্টুডেন্টরা চ্যলেঞ্জ করে আবেদন করেছে আমরা তাদের খাতাগুলো নিয়ে এসেছি। খাতাগুলো দেখা হচ্ছে।’
খাতা নিরীক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে বদরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা খাতা গুলো নিরীক্ষণ করি, আমাদের যারা শিক্ষক আছেন তাঁরা খাতা গুলো দেখেন, মার্ক গণনায় কোনো ভুল আছে কি না। আবার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে তাতে নম্বর দেওয়া হয়নি এমন আছে কি না। এগুলো চেক করার পর কম্পিউটারের মাধ্যমে আবার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি যদি কোনো ভুল থাকে আমরা তা সংশোধন করি।’
পরীক্ষা কেন্দ্রে একই কক্ষের সব শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘বিষয়টি আসলে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকের কিছু নয়। আমাদের যে সিস্টেম সে অনুযায়ী পরীক্ষার পর আমরা খাতাগুলো ভাগ করে দেই, তা বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরাই দেখেন। কাজেই তাঁদের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয় ফলাফলের জন্য। সে কারণে খাতায় যদি কেউ ফেল করে তাকে পাস করানোর সুযোগ আমার নাই। তাঁর পরও আমরা দেখব এমন কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, এমন কিছু অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে।’
ফলাফল কবে প্রকাশ করা হতে পারে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এটা বলা সম্ভব নয়। কারণ এটা একটা লম্বা প্রসেস, খাতাগুলো সারা দেশে ছড়ানো থাকে তা আনতে সময় লাগে। এ বছরে ১৫ দিনের ছুটির কারণে একটু বেশি সময় লাগছে। ছাত্রছাত্রীদের কোনো ক্ষতি হবে এমন কাজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করে না। অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা এখন অনেক এগিয়ে আছি।’
এদিকে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আগেই আবার পরবর্তী বছরের ফরম ফিলাপের তারিখ দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা দ্বন্দ্বে ভুগছেন জানালে বদরুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা রেজাল্ট না হওয়ার আগে ফরম ফিলাপ করবে না। রেজাল্ট হওয়ার পরও করতে পারবে।’
তবে এসব বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করতে এই প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, ‘নিউজ করলে এটা নেগেটিভ হয়ে যাবে।’
‘আমরা অনেক কিছু করি যেটা বাইরে প্রকাশ করি না। গত দুই বছরে বহু স্টুডেন্টের এমন রেজাল্ট হয়েছে- তাঁরা সব পার পেয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে যদি প্রতিবেদন করেন লেখালেখি করেন আর কিছু হবে না। আইনে যা আছে তাঁর বাইরে যাবে না। কারণ এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ হতেই পারে। তাই আমাদের ভিসি স্যার অনেক শক্ত মানুষ তিনি আইনের বাইরে যাবেন না। আমাদের পরীক্ষার যা নিয়ম আছে তাঁর বাইরে কিছু হবে না,’ বলেন বদরুজ্জামান। তিনি জানান, ঈদের ছুটির পর ৪ জুলাই অফিস খোলার পর দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সূত্র : এনটিভি অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*