জাতিসংঘের সমালোচনা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপনে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারী ২০১৭, বুধবার: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তে কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের পথে ইসরায়েলের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত বড় প্রতিবন্ধকতা।
এদিকে গত মঙ্গলবার পশ্চিম তীরে আরো আড়াই হাজার বসতি স্থাপনরে ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চারদিন পরেই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী নতুন সরকারের কারণে উৎসাহিত হয়েই নতুন এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি নিজে এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে জর্ডন নদীর পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিতে এসব বাড়িঘর নির্মাণ করা হবে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যে নতুন আড়াই হাজার বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, সেগুলো গড়ে তোলা হবে মূলত বর্তমান বসতিগুলোর ভেতরেই। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয় বারের মতো পূর্ব জেরুজালেম আর পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিল ইসরায়েল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইসরায়েলের সাহস যে আরও বেড়ে গেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বারাক ওবামার শাসনামলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। এর বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার জামাতা এবং তাদের মনোনীত নতুন রাষ্ট্রদূত, ইসরায়েলের পক্ষে জোরালো সমর্থনই শুধু জানায়নি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পর্যন্ত জেরুজালেমে নিয়ে আসার কথা বলছে।
জেরুজালেমের মেয়র নির বারাকাত সোজাসাপ্টা জানিয়েই দিলেন যে তাদের বসতি নির্মাণের কাজ এখন আরও দ্রুততর হবে। ওবামা প্রশাসন গত আট বছর যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন, তা ছিল তার পূর্বসূরি আর এখনকার ট্রাম্প প্রশাসন থেকে আলাদা। তিনি বসতি নির্মাণ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন, যেটার সঙ্গে তারা একমত ছিলেন না। বসতি নির্মাণ অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বাস করেন ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এটা আগের চেয়ে অনেক দ্রুততর হবে।
অনেকে মনে করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসলে কট্টর দক্ষিণপন্থীদের দিক থেকে যে চাপে আছেন, সে কারণেই উগ্র জাতীয়তাবাদীদের তুষ্ট করতে একাজ করছেন।
ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এই সর্বশেষ ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র বলেন, এটি শান্তির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদকে উৎসাহ যোগাবে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*