জলকামান কেন? নিরস্ত্র মানুষ ঠেকাতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে যাঁরা জড়ো হয়েছিলেন, তাঁদের পরনে কি বর্ম ছিল? হাতে অস্ত্র ছিল? তাহলে তাঁদের ঠেকাতে শাহবাগে জলকামান আনা হলো কেন? টিয়ারশেল ছুড়তে হলো, রাবার বুলেট। কিন্তু কেন?
এই প্রশ্ন রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতাকারী মিজানুর রহমানের। মারধর করলেও তাঁকে আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না। তিনি আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন। গত বৃহস্পতিবার তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা অর্ধদিবস হরতাল পালনের সময় পুলিশ এই মিজানুর রহমান কে মাটিতে ফেলে বেদম মারপিট করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি এখন তাঁর পূর্ব জুরাইনের বাসায় ফিরেছেন। পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মনের টানে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন বলে জানান।
মিজানুর বলেন, ব্যক্তি পুলিশের ওপর আমার ক্ষোভ ছিল না। আমি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে শুধু স্যান্ডেল প্রদর্শন করেছি। আমার কথা হলো পুলিশ আমাদের মতো নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষকে ঠেকাতে বর্ম, হেলমেট সব পরে এসেছে। জলকামানও এনেছে। আমি বিভিন্ন আন্দোলনে আগেও অংশ নিয়েছি। কিন্তু এমন একটা আন্দোলনে এই মাত্রায় টিয়ার শেল ছুড়তে কখনো দেখিনি। কিন্তু কেন?
ওই দিনকার ঘটনা বর্ণনা করে মিজানুর বলেন, সেদিন সকালে আন্দোলনে যোগ দিতেন তিনি ও সমমনা কয়েকজন জুরাইন থেকে শাহবাগে পৌঁছান। তিনি পৌঁছেই দেখেন পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ছে। জলকামান দেখে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি জলকামানের দিকে ইট ছুড়ে মারেন। হরতাল শেষ হওয়ার ঘণ্টা খানিক আগে আন্দোলনকারী একজন পুলিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিছুদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় ওই আন্দোলনকারীর হাত ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যায়। সে অবস্থাতেই তিনি আন্দোলনে অংশ নেন। পুলিশ যখন তাঁকে মারতে শুরু করে তখন তিনি আর থেমে থাকতে পারেননি।
মিজানুর বলেন, আমি তখন জলকামানের ওপর উঠে সেটির সামনে থাকা লোহার খাঁচাটি ঝাঁকাতে থাকি। পুলিশ এসে আমাকে টেনে হিঁচড়ে ওখান থেকে নামায়। তারপর লাথি মারতে শরু করে। এক সময় ছেঁচড়ে আমাকে থানার ভেতরও নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে মাটিতে ফেলে যখন পেটায় তখন শুধু আমি বুট দেখতে পেয়েছি। আর কিছু না।
মারধরের কারণে মিজানুরের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এই আশঙ্কায় পরে পুলিশের একজন কর্মকর্তা দুজন কনস্টেবল দিয়ে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর এক্স-রে করেন ও ব্যথানাশক ইনজেকশন দেন। তিনি এখন একটু ভালো বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা দিয়েছে কি না—জানতে চাইলে মিজানুর বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। থানায় সাদা কাগজে তাঁর থেকে সাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মারপিটের সময় চশমাটা হারিয়ে ফেলায় কিছু দেখতে পাননি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: