‘জনস্বার্থে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলীকে অনতিবিলম্বে বদলীর গণদাবি’

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার: সাতকানিয়া উপজেলায় যথাযথ নিয়মে অর্থ বছরের কাজ সম্পন্ন হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অনিয়ম ফুটে উঠেছে প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেনের পীরিয়ডে। তিনি অনিয়মের মধ্যে অফিস পরিচালনা করেন বলে খোদ সংশ্লি®ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ। তিনি ইতিপূর্বেও এই উপজেলায় প্রায় ৩ বছর চাকুরী করেছেন। ওই সময়ও অর্থ বছরের কাজ যথাসময়ে সস্পন্ন না করে শেষ বছরের ৩০ জুনে গোপনে ও প্রকাশ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বরাদ্দকৃত টাকা একাউন্টে রাখা হয়েছিল। গচ্ছিত টাকার মধ্যে পরে কিছু কাজ সম্পন্ন করে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। প্রকৌশলী পারভেজ ২০১৫ সাল থেকে ১৭ সাল পর্যন্ত এখানে কর্মরত ছিলেন। তখন অর্থ বছরের শেষে টাকা ভাগবাটোয়ারার সময় ছাত্রলীগের জনৈক নেতা অফিসে গিয়ে হাকা বকা করে ছিলেন। টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গরমিল হওয়ায় খবরটি অফিসের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল। জানা যায় এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এব্যাপারে প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেনের কাছে ২০১৮Ñ২০১৯ অর্থ বছরে এডিপি’র কত টাকা বরাদ্দ ছিল এবং বরাদ্দকৃত টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা ৩ জুলাই জানতে চাওয়া হলে তিনি তথ্য না জানিয়ে আরো উল্টো বলেন এখানে আড্ডা করার জায়গা না। অথচ এ ইপ্রতিবেদক তার কার্যালয়ে যে সময় উপস্থিত হয়েছিলেন তখন তিনি খোশ গল্পে মত্ত ছিলেন। তথ্য চাওয়াতে তার মাথা বিকৃত হয়ে যায়। এরপর এই প্রতিবেদক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোবারক হোসেনের কাছে এই তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ৮৪ লক্ষ ৬ হাজার টাকা। তন্মধ্যে কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আবাসিক ভবন মেরামতে জন্য ২০ লক্ষ টাকার কাজ এখনো করা হয়নি বলে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন সমন্বয় ও সময়ের অভাবে কাজ করা হয়নি। তবে টাকা একাউন্টে রক্ষিত। বর্ষার পরে কাজ সম্পন্ন করা হবে। এদিকে পারভেজ সরওয়ার হোসেন নিয়মিত অফিস করেন না অভিযোগ উঠেছে। কোন সময় অফিসে আসলেও বিকাল ২টা কিংবা ৩টায় আসেন। আবার ৫টার মধ্যে অফিস ত্যাগ করে চলে যান। উল্লেখ্য তার জন্য উপজেলা কম্পাউন্ডে বাসা বরাদ্দ থাকলেও তিনি থাকেন না। তিনি অসময়ে অফিসে হাজির হয়ে উল্টো আরো অধীনস্থ কর্মচারীদের উপর রেগে গিয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে জানা যায়। এতে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও নীতিমালা ভঙ্গ করে উপসহকারী প্রকৌশলীদের কাজ না দিয়ে তার ইচ্ছে মত সার্ভেয়ার ও কার্য সহকারীদের দিয়ে কাজ করান বলে সূত্রেপ্রকাশ। তিনি তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার ফায়দা লুটে। আরো উল্লেখ যে যেসব উপসহকারী প্রকৌশলী সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন পারভেজ তাদের পছন্দ করেন না বলে অভিযোগে প্রকাশ। তাদেরকে কোনঠাসা করে রাখেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বদলী করান। জানা যায় সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম নলুয়ায় একটি রাস্তার কাজের অনিয়ম ধরায় তাকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দেয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ফলে ওই প্রকৌশলী পরক্ষণে সাতকানিয়া থেকে বদলী হয়ে যান। সম্প্রতি আরেকটি ঘটনার উদ্ভব হয় উপ সহকারী প্রকৌশলৗ মামুনর রশিদকে কার্যসহকারী ফরিদুল আলম প্রকৌশলী পারভেজের উপস্থিতিতে তার কক্ষে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ ও মারতে তেড়ে যায়। এতে তার কোন ভূমিকা ছিলেন না। তার আমলে তার কক্ষ গোয়াল ঘরে পরিণত হয়। এখানে তার পূর্ববর্তী চাকুরীকালে তার অনিয়ম ও কার্যকলাপ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর জনৈক এমপি তার কার্যকলাপে অসন্তোষ হয়ে তাকে বদলী করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বদলী ও হয়েছিলেন। কিন্তু এই বিতর্কিত প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার হোসেন পুনরায় সাতকানিয়ায় যোগদান করায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি আবারও পূর্বের কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়েছে। এলাকার স্বার্থে তাকে এখান থেকে অনতিবিলম্বে বদলী করার জন্য গণদাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*