ছাত্রলীগ নেতা হামিদুল্লাহের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মহিলা আ’লীগ নেত্রী শেফালী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ জুলাই: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হামিদুল্লাহের বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেফালী আক্তার।hamidullah
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ঘোষিত শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ হামিদুল্লাহ। দায়িত্ব নেয়ার পরেই দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে তাদের মারপিটের অভিযোগও উঠে। মারধরের অভিযোগে গত ৮ জুন শাহজাহানপুর থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন শেফালী আক্তার। এছাড়া শেখ হামিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদনও করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হামিদুউল্লাহ কখনও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কোনো স্থানে কোনো কাজে অংশগ্রহণ করেনি। অথচ হঠাৎ তাকে শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ১৯৮৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে নাজেহালসহ নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করেছেন হামিদুউল্লাহ।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাব্বিরের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কারণেই তিনি পদ পেয়েছেন। এর আগে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি বা কর্মী হিসেবেও তাকে কোনদিন রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শাজাহানপুর ছাত্রলীগের ত্যাগী অনেক নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, ‘শাহাজানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুবেলের কাছে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন হামিদুল্লাহ। চাঁদা না দিলে এলাকায় ঢুকতে এবং ইন্টারনেট ক্যাবলের ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। ফলে রুবেল এখন প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
ছাত্রলীগের ওই কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর নয়, হামিদুল্লাহের পরিবারে বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের। তার দাদা ছিলেন মতিঝিল এলাকার তালিকাভুক্ত রাজাকার রাজাকার শেখ নুরুল ইসলাম শান্তিবাগির নাতি।’
‘এছাড়াও জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে শেখ হামিদউল্লাহর দাদা ও বাবাসহ তার পরিবারের রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। অন্তরঙ্গভাবে রয়েছে শেখ হামিদউল্লাহসহ তার দাদা ও বাবার ছবি।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুল্লাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মারামারির ঘটনাটা পুরোপুরি পারিবারিক সমস্যা থেকেই হয়েছে।
রাজাকার দাদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেখ নুরুল ইসলাম শান্তিবাগি আমার দাদা নন। আমার দাদার নাম শেখ সেকান্দার আলি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ সেকান্দার আলী হামিদ উল্লাহর দাদার ভাই হন। এই বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি বায়জিদ আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইলে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: