চুয়াডাঙ্গায় সরকারি ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: চুয়াডাঙ্গায় সরকারি ভবন নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার নিয়ে তোলপাড় হয়েছে দেশ জুড়েই। কিন্তু পাবনার একটি ঘটনায় জানা গেলো, এই প্রবণতা নতুন নয়। প্রায় ২৩ বছর আগে নির্মিত একটি স্কুল ভবন নির্মাণের সময়ও একই কাজ করা হয়েছে। তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।
সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুলের প্লাস্টার খসে বাঁশের অংশ বিশেষ বের হলে বিষয়টি নজরে আসে সবার। বাঁশের পাশাপাশি স্কুলের ভবনে বিভিন্ন স্থানে ফাটলের মধ্যে দেখা গেছে কাঠও। আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়েই ভবনেই চলছে পাঠদান।
শিক্ষকরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানালেও, নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের।
পাবনা জেলা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত বিন্যাডাঙ্গী গ্রামে বিন্যাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৯৪ সালে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে দুই দফায় স্কুলের ভবন নির্মিত হয়। ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদার ছিলেন সুজানগরের সুলতান মাহমুদ ও আব্দুর রউফ নামে দুই ব্যক্তি। ভবন নির্মাণের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করেন তারা। স্কুলটি সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে। বর্তমানে এর শিক্ষার্খী সংখ্যা ১৫০ জন।
সম্প্রতি ভূমিকম্পে স্কুল ভবনে বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ফাটল। এ সময় প্লাস্টার খসে যাওয়ায় বেরিয়ে আসে বাঁশ ও কাঠের অংশবিশেষ। এরপরই বিষয়টি নজরে আসলে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষক অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।
বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, আতঙ্কের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বারবার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালেও কোনো কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ তার।
বিদ্যালযের সহকারী শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, ভবনে ফাটল ও বাঁশ বের হয়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা আসতে চায় না স্কুলে।
যে দুই ঠিকাদার এই ভবনটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন তাদের নাম জানা গেলেও তাদেরকে খুঁজে বের করা যায়নি। তারা এখন কোথায় আছেন সেটাও জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজানগর উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম ভবন নির্মাণের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন আগের হওয়ায় ভবন নির্মাণের ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সুজানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার দু:খ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিদ্যালয় থেকে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এটা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। দীর্ঘদিন আগে ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুল মতীন গত বছরের ২৯ মে এবং সুজানগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বেল্লাল হোসেন পরদিন স্কুলটি পরিদর্শন করলেও তাদের পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*