চুক্তিভিত্তিক সকল নিয়োগ হবে কাতারে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার: কাতারের শ্রম আইন সংস্কার করে, কাফালা পদ্ধতির পরিবর্তে আজ থেকে দেশটিতে সকল নিয়োগ হবে চুক্তিভিত্তিক। সেই সঙ্গে আগে থেকে সেখানে থাকা শ্রমিকদের চুক্তিও নতুন পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বিদেশী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন তার ‘কাফিল’ বা নিয়োগদাতা। এমনকি শোষণের শিকার হলে কিংবা অন্যত্র ভালো চাকরি পেলেও ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই শ্রমিকদের। চাকরি ছাড়লে কিংবা প্রয়োজনে দেশে ফিরে আসলে আরোপ হয় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা।
‘কাফালা’ বলে পরিচিত এই ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন সমালোচনা হওয়ার পর অবশেষে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। আজ থেকে বাতিল হচ্ছে সেই সমালোচিত ‘কাফালা’ পদ্ধতি।
চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতিতে দেশে ফিরতে হলেও কাফিলের অনুমতি কিংবা অনাপত্তির প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে যদি কোন আইনি অভিযোগ না থাকে, সে ইচ্ছা ও প্রয়োজন মত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে। এছাড়া চাকরি পরিবর্তন করতে চাইলে, নতুন আইন অনুযায়ী সেটি আর অসম্ভব নয়। বর্তমান কাফিলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হলে কিংবা এক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর কাজের একজন শ্রমিক চাইলে অন্যত্র কাজ করতে পারবেন। তবে, এক্ষেত্রে কাফিলের অনুমতির প্রয়োজন হবে। তবে, নতুন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একজন শ্রমিককে বর্তমান নিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারবেন। কাতারের শ্রম অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে একজন শ্রমিক কাফিল বা স্পন্সর পরিবর্তন করতে পারবেন। এছাড়া চুক্তি শেষ হবার আগেই চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে, নিয়োগকারী এবং সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে তা করতে পারবে বিদেশি শ্রমিকরা।
নতুন আইনের অপব্যবহার হতে পারে, এমন আশংকা করছে অনেক শ্রমিক সংগঠন। যেহেতু এখন থেকে সকল বিদেশি শ্রমিককে চুক্তিতে নিয়োগ করা হবে, ফলে নিয়োগকারীর খুশিমতো শ্রমিক ছাটাইয়ের আশংকা রয়েছে। কোন শ্রমিক যদি ছাটাই হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ না করে কিংবা যদি তার অভিযোগ আদালত আমলে না নেয়, সেক্ষেত্রে নতুন আইন অনুযায়ী ওই শ্রমিক পরবর্তী চার বছরের মধ্যে আর কাতারে কাজের অনুমতি পাবে না।
এছাড়া, আদালতে রায়ে যদি কোন শ্রমিককে দেশে পাঠিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত হয়, পরবর্তীতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া সেদেশে আর ঢুকতে পারবেন না ওই ব্যক্তি।
কাতার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। সরকারি হিসেবে এই বছরও এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক লাখের মতো বাংলাদেশি গেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতারে এখন প্রচুর অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, যাতে মূলত নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*