চীনকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ আমেরিকা

কে. এম. আলী হাসান, ০৮ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: বিশ্বের পরাশক্তি মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তার চিরা-চরিত ঐতেহ্যবাহী কূটনিতিক দক্ষতা এবং রাজনীতিক পারদর্শীতা দিন দিন হ্রাস পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ডোলান্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকার বিশ্বব্যাপী কৃতৃত্ব খর্ব হতে শুরু করেছে। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভালা দেমিন পুতিন কৌশলে হস্তক্ষেপ করেছিল। কারণ পুতিন হলেন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সে চাইছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পই ক্ষমতায় আসুক তাহলে পুতিন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। ঠিক তাই হলো কারণ আমেরিকায় যদি একজন দক্ষ রাজনীতিবীদ ও কূটনিতিক বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে রাশিয়া নিশ্চিত বেকাদায় পড়বে। পুতিন তাই চাইছিল যে, একজন অপেক্ষাকৃত কম ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি ক্ষমতায় আসুক তাহলে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশের নির্বাচনে ম্যাগানিজম করা কিন্তু এতো সহজ না তবে পুতিন তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে আমেরিকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যতদিন ডোলান্ড ট্রাম্প থাকবেন ততদিন আমেরিকা সারা বিশ্বে তার কৃর্তৃত্ব হারাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিক তার মধ্যে একজন দক্ষ রাজনীতিবীদের যে মেধা এবং দক্ষতা থাকা দরকার তার মাঝে তা অনুউপস্থিত। সুতরাং আগামীতে আমেরিকা সারা বিশ্বে তার প্রভাব-প্রতিপত্ত্বি এবং সৌর্য্য, বির্য হারাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়। অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে চমক সৃষ্টি করছে চীন। চীন দীর্ঘদিন ব্যবসায় মনোনিবেশ করে সফল অর্থনীতির দেশ হওয়াতে আস্তে আস্তে শুরু করেছে আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমেই নাক গলাতে শুরু করেছেন। চীন দক্ষিণ এশিয়ায় সবকটি দেশকে নিজের কবজায় নিয়ে নিয়েছেন। আর আমেরিকার সাধ্য নেই তার বলয় কে ভেঙ্গে ফেলার। কারণ আমেরিকা চীনকে দমিয়ে রাখতে পারছে না। রাজনীতিক কৌশল বলেন আর অর্থনৈতিক কৌশল বলেন সবদিক দিয়ে চীন এখন আমেরিকার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমেরিকার ভুল পলিসির কারণে অথচ শক্তির বিচারে আমেরিকা অনেক এগিয়ে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের কাছে আমেরিকা ধরাশায়ী। এর নেপথ্য কারণ খুজে বের করতে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে আমেরিকার গবেষণা করা দরকার। দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার এক সময়ে খুবই বন্ধু রাষ্ট্র ছিল পাকিস্তান কিন্তুু আমেরিকার বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে সেই পাকিস্তানই আমেরিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চীনের দিকে ঝুকে পড়েছে। এর কারণ কি? এর অন্যতম কারণ হলো বর্তমানে আমেরিকার হোয়াইট হাউস, পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অধিকাংশ ইহুদী। এরা প্রত্যেকেই ইসরাইলের লোক। মার্কিন রাষ্ট্র পলিসি নির্ধারিত হচ্ছে ইসরাইলীদের মদদে। যতদিন আমেরিকায় ইহুদী লবির প্রভাব থাকবে ততদিন আমেরিকা সারা বিশ্বে তার কৌশলে মার খাবে। অতএব, আমেরিকাকে তার ইহুদী লবি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যতদিন ইহুদী লবি থেকে বের হয়ে আসবে না ততদিন আমেরিকার পতন অনিবার্য্য।
মার্কিন নীতি এবং চীনের নীতিঃ বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন নীতি চলমান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়। আমেরিকা অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার বিপরীতে চীন উন্নয়ন এবং বাণিজ্য দিয়ে তার নেটওর্য়াক বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় দক্ষিণ এশিয়ায় চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান প্রভূতি রাষ্ট্রে বাণিজ্যিক এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে কাজ করে এসব দেশের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। চীন এশিয়া ছাড়িয়ে সূদূর আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দরিদ্র রাষ্ট্রের উন্নয়নের অংশীদার হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে চীন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরো শক্ত অবস্থান নেবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। কারণ চীনের আন্তর্জাতিক পলিসি এবং বাণিজ্য সর্ম্পক সবাই গ্রহণ করছে। কারণ হলো আমেরিকা যার বন্ধু হয় তার শক্রুর প্রয়োজন হয় না। খোদ আমেরিকাই ঐ রাষ্ট্রের এক নম্বার শক্রুতে পরিণত হয়। অনেকটা বিশ্বাসঘাতকের মতো। অন্য দিকে চায়না তার নিজস্ব গতিতে চলে। সে অন্য দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাগ গলায় না বরং সে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাই থাকে সকলে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।
আর আমেরিকা বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় ইসরাইলী টিং থ্রাঙ্ক দ্বারা। কথিত আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সব পলিসিতে ইহুদী ইসরালীদের প্রভাব থাকে বেশি। আর ইহুদী জাতি হলো মারাত্মক এক জাতি যারা সব অপকর্মের মধ্যে থাকে। বিশ্বের বড় বড় ঘটনার মধ্যে ইহুদীদের হাত থাকে। আর আমেরিকা অহেতুক যুদ্ধে জড়িয়ে যায় খুব সহজেই। বর্তমানে ইয়ামেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ তার জলন্ত উদাহরণ। মার্কিন পলিসি হল পরষ্পর যুদ্ধ বাধিয়ে অস্ত্র বিক্রি করা আর চীন সব সময় ব্যস্ত থাকে বাণিজ্য নিয়ে। তাছাড়া আমেরিকা মুসলিম বিশ্বের সাথে ও বৈরী মনোভাব পোষণ করে। শুধুমাত্র স্বার্থের কারণে সৌদি-আরবের সাথে ভাল সর্ম্পক রয়েছে। অন্যদিকে চীন যদিও বা তার দেশের সকল মুসলিম অধ্যূষিত অঞ্চলের মুসলমানদের সাথে নিষ্ঠুর নির্যতন চালাছে এবং মায়ানমারের নিষ্ঠুর ভয়াবহ মুসলিম নির্যাতনকে নীরবে সমর্থন করলে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চীন মুসলিম বিশ্বের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অন্যদিকে আমেরিকা একের পর এক মুসলিম দেশ জোরপূর্বক দখল করে ধ্বংসে মেতে উঠেছে ইরাক, আফগানিস্তান প্রমূখ তার জলন্ত উদাহরণ। লেখক: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক ।

Email: kmalihasan75@gmail.com

Leave a Reply

%d bloggers like this: