চালের দাম বৃদ্ধির জন্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে এম এ আউয়াল এমপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল এমপি। তরিকত ফেডারেশনের এই মহাসচিব মঙ্গলবার বাজেটোত্তর আলোচনায় বলেন, চালের দাম বেড়েছে বিগত সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সমালোচনা করে বলেন, খাদ্যমন্ত্রী ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, চালের দাম বৃদ্ধির জন্য বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা দায়ী। সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের কথা না বলা ঠিক নয়।   এতে করে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত প্রকৃত হোতারা পার পেয়ে যায়। এম এ আউয়াল বলেন, অপরাধীরা যে দলই করুক না কেন, চালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চালের দাম কারা বাড়িয়েছে, এটা তদন্ত করতে হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে তরিকতনেতা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তারা ‘যুগপৎ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং হতাশ এবং  অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কেবলমাত্র অলীক স্বপ্ন-কল্পনাই এই প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, তা শুনে আমাদেরও বিস্মিত হতে হয়, ভেবে, যে মাত্র কদিন আগে আপনার দলের প্রধানের দেওয়া ভিশন ২০৩০’এর অনেক প্রস্তাবই এই সরকার বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। এম এ আউয়াল বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, পদ্মা সেতুও খালেদা জিয়া তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবেন না বলে একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন। আমি মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে সবিনয় প্রার্থনা করব, স্বপ্নের এই সেতু যেন তিনি নিজ চোখে দেখে পদ্মা পাড়ি দিতে পারেন।

জিডিপি উন্নয়ন ও অনুন্নয়নব্যয় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন এম এ আউয়াল। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের অনুন্নয়ন খাত ও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সংশোধিত বাজেটের অনুন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৯.১% এবং উন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৫.৯%। অর্থাৎ জিডিপির অংশ হিসেবে উন্নয়ন ব্যয় অনুন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় ৩.২% কম। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনুন্নয়ন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় খানিকটা খটকা লাগে। এ বিষয়টি সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে রাখার প্রস্তাব করছি।

ঘাটতি বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ১ লক্ষ ১২ হাজার ২ শত ৭৫ কোটি। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক সূত্র থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৯ শত ২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এর পরিমাণ ২৮ হাজার ৭ শত ৭৭ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বৈদেশিক সূত্রের মাধ্যমে ঘাটতি পুরণে ৮০% বৃদ্ধি ধরা হয়েছে। পুরোপুরি বৈদেশিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত এই অর্থ পাওয়া কতটা বাস্তবসম্মত?

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে, ২০১৫-১৬ সালে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল, আর প্রস্তাবিত বাজেটে সেটাকে ৭৬০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছে যা ১৮১% বেশি, এই পরিমাণ অর্থ অর্জন কতটা সম্ভব বলে প্রশ্ন তোলেন এম এ আউয়াল। বাজেট আলোচনায় আউয়াল বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার মেশিনারিজগুলো পড়ে আছে। সংবাদপত্রে প্রকাশ, নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের মেশিনারিজগুলো সচল করা হচ্ছে না। এসব কারণ খতিয়ে দেখা হোক। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে তা কমানো না হলে দেশের ক্রমবর্ধমান এই শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে। ফ্ল্যাট ও প্লটের শুল্ক কমানো এবং রেজিস্ট্রেশন ফি করানোর জোর দাবি জানান এম এ আউয়াল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: