চসিকের মূল কাজ পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ ও আলোকায়ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য সেবার সুনাম ফিরিয়ে আনতে চান নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন,‘স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রামcity সিটি করপোরেশন শুধুমাত্র চট্টগ্রামে নয়, সারা বাংলাদেশে এমনকি দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করেছিল। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, এখন সে সুনাম অনেকটা অতীত। এটাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।’ বুধবার দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আ জ ম নাছির বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। যেটি এখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। চেইন অব কমান্ড শুধু কাগজে কলমে থাকার জন্য নয় বাস্তবেও থাকতে হবে এবং প্রতিফলন হতে হবে।’ এক্ষেত্রে তার অবস্থান জিরো টলারেন্স বলে উল্লেখ করে মেয়র বলেন,‘ কাউকে কোনভাবে দলাদলি করার সুযোগ আমি দিব না। প্রত্যেকে যার যার অবস্থানে থেকে যার যে দায়িত্ব সেটা সততার সঙ্গে স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং আইনের অনুকূলে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যার যে দায়িত্ব তা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করতে হবে। এখানে কোন ধরনের অজুহাত, আপত্তি ও ফাঁকিবাজি করার কোন সুযোগ নেই। রোগী থাকুক আর না থাকুক নির্দিষ্ট সময়ের আগে কর্মস্থলে আসতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে কর্মস্থল ত্যাগ করবেন।’ নবনির্বাচিত মেয়র বলেন,‘স্বাস্থ্য বিভাগের যে সুনাম ছিল এটা পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। কার কারণে হয়েছে এটা আমাদের নিজেদের বিষয়। কিন্তু মানুষ দায়ী করবে এটার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের যে প্রত্যাশা এটা পূরণ করতে হবে।’ এর আগে মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। চিকিৎসকদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বেতন-ভাতা ও হয়রানিসহ বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। সিটি করপোরেশন আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে আছে জানিয়ে আ জ ম নাছির বলেন, ‘আপনাদের দুঃখ কষ্টের কথা শুনেছি। অসুবিধার কথাও শুনেছি। হাসপাতালগুলোর নাজুক অবস্থার কথাও জেনেছি। এগুলো রাতারাতি আমি সমাধান করতে পারবো না। কিন্তু সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এগুলো সমাধান করবো। সেবার পরিধি বাড়াতে গিয়ে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে গেছে। আর্থিকভাবে খুব টানাপোড়েনের মধ্যে আছে করপোরেশন।’ নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘ম্যানুয়েল অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্ব তিনটি। পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ ও আলোকায়ন। যেগুলো অবশ্য করণীয়। এ তিনটির বাইরে বর্তমানে সিটি করপোরেশনে অনেকগুলো দায়িত্ব পালন করছে। দায়িত্বগুলো পালন করতে গিয়ে একদিকে জনগণ উপকৃত হলেও সিটি করপোরেশন আর্থিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপনাদের সম্মানি যেভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত সেখান থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। যে কারণে কাজে আপনাদের যতটুকু আগ্রহ থাকা উচিত ততটুকু আগ্রহ নিয়ে দায়িত্ব বা সেবা প্রদান করতে পারছেন না। এটি একটি নিষ্ঠুর বাস্তবতা। অনেক বড় সমস্যাও বটে। যেহেতু সেবা প্রদান করার ব্রত নিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন এবং এতদিন ধৈর্য্য ধারণ করেছেন। টাকার বিষয়টাকে গুরুত্ব না দিয়ে আরো কিছুদিন ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ করবো।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ছয়টি বিভাগই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এখানে কোন বিভাগের প্রধান স্থায়ী নয়। যার কারণে বিভাগটি যেভাবে সচল হওয়া প্রয়োজন, গতিশীলতা লাভ করা প্রয়োজন সেভাবে গতিশীলতা লাভ করতে পারছে না।’ মতবিনিময় সভায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উপাত্ত মেয়রকে অবহিত করেন। করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ হোসেন, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু ও সচিব রশিদ আহমদ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ ৬টি মাতৃসদন হাসপাতাল, একটি জেনারেল হাসপাতাল, ২০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ১টি খতনা কেন্দ্র, একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ও ৯টি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয় ও দুইটি ইনস্টিটিউট পরিচালনা করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*