চলতি বাজেটে নারী ও শিশু খাতে ১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের বাজেটে নারী ও শিশু খাতে ১ হাজার ৫৮০taka কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ অর্থ নারী নীতি, নারী ও শিশুকল্যাণ, নারীর বিভিন্ন আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হবে। গত অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারের ওপর তদারকিতে জোর দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এক সেমিনারে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬ : নারীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে গতকাল মঙ্গলবার বক্তারা এ পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনডিএস) সেমিনারটির আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো প্রতিমা পাল মজুমদার। বিএনডিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাংসদ শওকত আলী। এতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়মা হক, ইউএনওমেনের উইমেনস ইকোনমিক এম পাওয়ারমেন্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তপতী সাহা, অর্থনীতিবিদ সালমা খান প্রমুখ। প্রতিমা পাল মজুমদার মূল প্রবন্ধে আগামী বাজেটে নারীসমাজের আদিবাসী ও চরাঞ্চল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ বিষয়ক দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু বাজেট বরাদ্দ করলেই হবে না, সেটি ঠিকমতো ব্যয় হচ্ছে কি না বা অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে কি না, সেটি পরিবীক্ষণ করা জরুরি। আগামী বাজেটে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয়ে লিঙ্গ সংবেদনশীল বা জেন্ডার বাজেট পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বিআইডিএসের এই গবেষক বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারীর জন্য সরাসরি উন্নয়ন বরাদ্দ কমপক্ষে ১৩ শতাংশ করতে হবে। নারীসমাজের দাবি, এই বৃদ্ধি হবে নারীর জন্য প্রণীত প্রকল্পের সংখ্যা, সম্পদ বরাদ্দের পরিমাণ এবং প্রকল্প প্রকৃতির নিরিখে। তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করার দাবি করে বলেন, নারীর গয়না আমানত হিসেবে গচ্ছিত রাখার নিয়ম চালু করতে হবে। তপতী সাহা বলেন, বরাদ্দ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তাই জেন্ডার বাজেট বরাদ্দের সময় কোনো প্রকল্পে নারীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এ ছাড়া শুধু স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নয়, নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে বড় বরাদ্দ রাখা দরকার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৮৭ শতাংশ বিবাহিত নারী সহিংসতার শিকার হয়। সালমা খান বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি তহবিল থাকা দরকার। তিনি আরও বলেন, বাজেট প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কেন নারীরা কেবল দাবিদাওয়া জানিয়ে যাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ছাড়া সেমিনারে বক্তারা আগামী বাজেটে নারীদের জন্য যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন সেগুলো হচ্ছে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রকল্প নেওয়া, আদিবাসী নারীদের দক্ষতা প্রসারে প্রণোদনা, নারী কৃষিশ্রমিকদের সরকারি ভর্তুকি ও কৃষিকার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দায়বদ্ধ করা, নারীদের বৃদ্ধ বয়সে পেনশনের ব্যবস্থা করা, কৃষিজমিতে নারীর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের জাতীয় বাজেটে নারীর হিস্যা ৫০ শতাংশ করা।
সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*