চবিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এ্যাক্সেসসিবল ই-লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৭ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, সোমবার: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত প্রায় ১১০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এ্যাক্সেসসিবল ই-লার্নিং সেন্টার উদ্ভোধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। একেখান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রোগ্রাম এবং বেসরকারী স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন) যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এই এ্যাক্সেসসিবল ই-লার্নিং সেন্টার এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ৭ই জানুয়ারী, সোমবার ২০১৯ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান অতিরিক্ত সচিব এবং প্রকল্প পরিচালক, এটুআই, জনাব সালাউদ্দিন কাশেম খান ট্রাস্টী সেক্রেটারী, একেখান ফাউন্ডেশন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. শিরীন আকতার মাননীয় উপ-উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ভাস্কর ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, এটুআই প্রোগ্রাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আরিফুর রহমান প্রধান নির্বাহী, ইপসা।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের প্রথম ইনক্লুসিভ ইউনিভার্সিটি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরই বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এ্যাক্সেসসিবল ই লার্নিং সেন্টার একটি অন্যতম উদ্যোগ। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ কর্মসূচী হাতে নেওয়া হযেছে যার মধ্যে রয়েছে  প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি কৌটা, শিক্ষা বৃত্তি, হলে সিট প্রদানে অগ্রাধিকার অন্যতম। এ ধরনের কার্যকরী ও উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগকে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান অতিরিক্ত সচিব এবং প্রকল্প পরিচালক এটুআই বলেন, এটুআই প্রতিবন্ধী  শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে আসছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ উদ্ভাবনকে সহায়তা করছে। জনাব সালাউদ্দিন কাশেম খান ট্রাস্টী সেক্রেটারী একেখান ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য আমরা যেকোন ধরনের উদ্ভাবনী মূলক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকবো। ভাস্কর ভট্টচার্য তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে এই উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করতে গিয়ে বলেন, এই ই-লার্নিং সেন্টারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সকল ধরনের উপযোগী সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার, এ্যাক্সেসসিবল ডিকশনারী, দুইশত এর বেশী ডিজিটাল টকিং বুক, তিনশত ই বুক, ৫০টিরও বেশী ব্রেইল বই এরং প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে আইসিটি প্রশিক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমে কারিগরী ও আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেছে এটুআই, একেখান ফাউন্ডেশন এবং ইপসা। ইপসার প্রধান নির্বাহী জনাব মোঃ আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. শিরীন আকতার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী  শিক্ষার্থীরা কোন অংশে পিছিয়ে নেই বরং অন্য অনেকের চাইতে অগ্রগামী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের ই-শিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী  শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে তুলবে, যাতে তারা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে  উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: