চবিতে তাপস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনের জামিনে মুক্তি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাপস সরকার হত্যার ৪৬ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারেনি। 0এদিকে গত বুধবার তাপস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের অবহেলায় এ পর্যন্ত চবির ১৮টি হত্যাকাণ্ডের কোনোটিরই বিচারের আওতায় আসেনি জড়িতরা। জানা যায়, গত ২৬ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হয়েছে ১৮টি হত্যাকাণ্ড। প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ফুল দেয়ার মাঝে কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বলি হতে হয় সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তাপস সরকারকে। চবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯৮৮ সালে। ওই বছরে নিহত হয় আমিনুল হক ও আইনুল হক নামের দুইজন। ১৯৯০ সালে নিহত ফারুকুজ্জামান নামের এক ছাত্র। ১৯৯৪ 1সালে নিহত হয় ছাত্রদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হুদা মুছা। ১৯৯৭ সালে নিহত হয় আবৃত্তিকার বকুল। ১৯৯৮ সালে নিহত হয় বরিশাল থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা আইয়ুব নামে এক শিক্ষার্থী। একই বছর নিহত হয় মুশফিক-উস-সালেহীন, সঞ্জয় ও সাইফুর রহমান নামে আরো তিন ছাত্র। এরপর ১৯৯৯ সালে নিহত হয় জোবায়ের নামে এক শিবির কর্মী। ২০০১ সালে নিহত হয় ছাত্রলীগের নেতা আলী মর্তুজা। একই বছর নিহত হয় মাহমুদ হাসান ও মো. রহিমুদ্দিন নামের দুই শিবির কর্মী। ২০১২ সালে নিহত হয় শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলাম। সর্বশেষ ২০১৪ সালে নিহত হয় শিবির নেতা মামুন হোসেন ও ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার। তাপস সরকার হত্যার ঘটনার পর পূর্বের মতই ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র উপদেষ্টা খান তৌহিদ ওসমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ৪৬ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রকাশ হয়নি কোনো রিপোর্ট। রিপোর্ট প্রকাশ করার ব্যাপারে ছাত্র উপদেষ্টা খান তৌহিদ ওসমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের ভেতরে রিপোর্ট দেয়া হবে। উল্লেখ্য, চবির ১৮টি হত্যাকাণ্ডের প্রতিটির বিচারের জন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটিরও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের শাস্তি না হওয়ায় বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান না থাকার কারণেই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: