চন্দনাইশ বরমাতে একটি সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষে নামকরণ নিয়ে বিভ্রান্তি

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: উপজেলার বরমা এলাকায় রমজান আলী চৌধুরী ফলকধারী সড়কের উন্নয়ন কাজ আবদুল মোনাফ চৌধুরী নামে এসে উন্নয়ন কাজ শেষে নামকরণ নিয়ে পৃথক পৃথক ফলক লাগানো হয়েছে সড়কের দুই পাশে। Chandaniash Pic-04
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শহীদ মুরিদুল আলম সড়ক সংলগ্ন বরমাতে দীর্ঘ ৭/৮ বছরের পুরানো রমজান আলী চৌধুরী সড়ক নামকরণে পূর্ব কেশুয়া এলাকায় সড়কটিতে ইতিমধ্যে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ৫শ ৪০ মিটার ব্রীক সলিনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নিজস্ব তহবিল থেকে স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের অনুকূলে মরহুম আবদুল মোনাফ চৌধুরী সড়কের নামে ৩ লক্ষ টাকা সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। সে হিসেবে রমজান আলী চৌধুরী ফলক লাগানো সড়কে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫শ ৪০ মিটার ডাবল ব্রীকের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে আবদুল মোনাফ চৌধুরীর ওয়ারিশেরা আবদুল মোনাফ চৌধুরীর নামে ফলক দিতে গেলে রমজান আলী চৌধুরীর ওয়ারিশেরা বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে চৌধুরী বাড়ী সড়ক নামে ফলক স্থাপন করা হয়। ফলে সড়কের এক পাশে ৭/৮ বছরের পুরানো রমজান আলী চৌধুরীর নামে নামকরণ ফলক। অপর পাশে চৌধুরী বাড়ী সড়ক নামে সড়কের অপর পাশে আরেকটি নামফলক দিয়ে উন্মুক্ত করার জন্য ফলকের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আবদুল মোনাফ চৌধুরীর ছেলে শাহাদত হোসেন চৌধুরী জসিম বলেছেন, ইতিমধ্যে ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে এ সড়কটিতে আবদুল মোনাফ চৌধুরীর নামে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বরাদ্দ দিয়ে সড়কের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। সে থেকে এ সড়কটি তার বাবার নামে নামকরণ করা হয়েছে। অপরদিকে রমজান আলী চৌধুরীর দৌহিত্র আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী রাসেল বলেছেন, রমজান আলী চৌধুরী সড়কটি দীর্ঘদিনের পুরানো। এ সড়কটি রমজান আলী চৌধুরী অধিকাংশ জায়গা দিয়ে স্থানীয়দের সুবিধার জন্য নির্মাণ করেছিল দীর্ঘ ৩০ বছর পূর্বে। স্থানীয় জনগণ রমজান আলী চৌধুরীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নামে এ সড়কে ফলক দেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে স্থানীয়দের অর্থায়নে সড়কটি ব্রীক সলিনে রূপ নেয়। তার মতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে পরিষদ থেকে যে বরাদ্দ দিয়ে আবদুল মোনাফ চৌধুরীর নামে সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে, সে সড়কটি এ সড়ক নয় বলে তিনি দাবী করেন। এদিকে রমজান আলী চৌধুরীর স্বজনদের কয়েকজনের স্বাক্ষরে স্থানীয় সাংসদকে সড়কটির উন্নয়ন ও রমজান আলী চৌধুরীর নামে নামকরণের জন্য আবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, রমজান আলী চৌধুরী এবং আবদুল মোনাফ চৌধুরী পরস্পর নিকটতম আত্মীয় বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এ সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে রমজান আলী চৌধুরী সড়ক হিসেবে পরিচিত আছে এবং এ সড়কে তিনি বরাদ্দও দিয়েছেন। হঠাৎ করে আবদুল মোনাফ চৌধুরীর ছেলেরা এ সড়কের নাম পরিবর্তন করে তার বাবার নাম বসানোর জন্য নতুন নামকরণ সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেছেন, যেহেতু উভয়পক্ষই আত্মীয় এ ব্যাপারে কারো বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। তাছাড়া বরাদ্দ দেয়ার পর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক উঠে আসায় উভয়পক্ষকে জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম তাঁর কার্যালয়ে ডেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন। অন্যথায় তিনি সড়কে কোন ধরনের নামফলক উন্মোচনের জন্য যাবেন না বলে জানান। বর্তমানে এ সড়কের নামকরণ নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: