চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলরেরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছে

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ, ২৪ নভেম্বর: আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চন্দনাইশ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরেরা চষে বেড়াচ্ছে।M.-Arshad-Pic-
এ সকল প্রার্থীদের উপস্থিতি পাড়ায়-মহল্লায় মুখরিত হয়ে উঠে। প্রতিটি চা’র স্টলে চলছে পৌর নির্বাচনের আলোচনা। কে প্রার্থী হচ্ছে, কে কার চেয়ে বেশি যোগ্য, কাকে ভোট দিলে পৌরবাসী সুযোগ সুবিধা বেশি পাবে, কাকে সবচেয়ে আগে পাওয়া যাবে, কে কার কাছের মানুষ। এসব বিষয় নিয়ে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ করছে সাধারণ ভোটারেরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌরসভার প্রতিটি জনপদে এ সকল প্রার্থীরা দোয়া প্রার্থনা করছে। কেউ নিজেকে তার অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরছে। কেউ চা’র স্টলে বসে দোকানে থাকা লোকজনদের সাথে আড্ডা জমিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, জানাযা, মিলাদ, মেজবানসহ সব স্তরে আর্থিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি উপস্থিত হয়ে নিজেই তার পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডেই আ’লীগের প্রার্থীই সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য দলের প্রার্থীরা সংখ্যায় কম এবং প্রচারেও কিছুটা পিছিয়ে। দলীয় প্রতীকে মেয়র পদ ছাড়া কাউন্সিলর পদে নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি দল তথা আ’লীগের সমর্থক প্রার্থীক ক্ষেত্র বিশেষে ৫ জনেরও বেশি হতে পারে। ১নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন প্রার্থী না হওয়ায় নতুন মুখের সংখ্যা বেশি। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি এস এম মোরশেদ চৌধুরী, সাবেক জোয়ারা ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়া, মো. বাবুল, অজয় দত্ত, আবুল কালাম। ২নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. ইউছুপ ভান্ডারী, প্রাক্তন কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম, চন্দনাইশ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মুছা চৌধুরী, ব্যবসায়ী নরুল ইসলাম বাচা, যুবলীগ নেতা হামিদুর রহমান, ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি মোজাফফর আহমদ চৌধুরী। ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও বেলাল উদ্দিন সম্রাট। ৪নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল হালিম, পৌরসভা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন জনি, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুর রহমান, মোজাম্মেল ফকির, মো. রায়হান, হেলাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম। ৫নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল কবির, আ’লীগ নেতা আবুল কালাম, মো. সায়েম। ৬নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রশিদ আহমদ, মো. ফখরুদ্দীন, পৌরসভা গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন খোকন, ফল ব্যবসায়ী আবদুল হক। ৭নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রবিউল হোসেন জসিম, প্রাক্তন কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম ভেট্টা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন, দানু মিয়া, জয়নাল আবেদীন, আহমদ হোসেন, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক। ৮নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র মো. তৈয়ব আলী, পৌর এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, রোকন উদ্দিন, মন্টু কুমার দেব। ৯নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর খোরশেদুল আলম সবুজ, যুবলীগ নেতা মো. লোকমান হাকিম, মুজিবুর রহমান দুলাল, আবদুল মজিদ, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা সেকান্দর হোসেন, কাজী জসিম উদ্দিন। প্রতিটি মহিলা ওয়ার্ডে বর্তমান মহিলা কাউন্সিলর ৩ জন সহ একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও অদ্যাবধি মাঠে কেউ প্রচার-প্রচারণায় নেই। আ’লীগ, বিএনপি, এলডিপি’র সমর্থকের প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে তপশীল ঘোষণার আগেই কাজ করে যাচ্ছে। তারা বলছেন, যেহেতু দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন না হওয়ায় তারা খুবই খুশি। বিশেষ করে সরকারি দলের সমর্থকেরা একাধিক প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তপশীল ঘোষণা হলে প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: