চন্দনাইশে ১২৩ টি মন্দিরে মহানবমী পুজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হতে চলেছে, কাল দশমী

চন্দনাইশ সংবাদদাতা, ০৭ অক্টোবর ২০১৯ ইংরেজী, সোমবার: উপজেলার ২ টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে ১’শ ২৩ টি মন্দিরে গত ৪ অক্টোবর (শুক্রবার) ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় চন্দনাইশে শুরু হয়েছিল। ৭ অক্টোবর (সোমবার) মহানবমী পুজার মধ্য দিয়ে চন্দনাইশে দূর্গা পূজা সম্পন্ন হতে চলেছে। এ উৎসব চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমার গায়ে সব ধরণের রঙে রাঙিয়ে প্রতিমা সাজিয়েছেন। মন্দিরে মন্দিরে পূজা অর্চনা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, বস্ত্র বিতরণ, আলোচনা সভাসহ ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাৎসব শেষ হতে চলেছে। আজ ৮ অক্টোবর মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। গত ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে দুর্গা দেবীর মর্ত্যে আগমন ঘটেছে।

এবার দেবীর আগমন-গমন দুটোই ঘোড়ায় চড়ে। শাস্ত্রমতে, দেবীর ঘোড়ায় আগমন ও গমনের ফল শুভ নয়। এতে অমঙ্গল অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই দুর্গাপুজা। যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘœ, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রীয় মতে, দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলে তিনি তার কষ্ট দূর করেন। দুর্গা পুজার সঠিক সময় বসন্তকাল। কিন্তু বিপাকে পড়ে রাজা রামচন্দ্র এই শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। বাঙালিদের কাছে শারদোৎসব নামে পরিচিত দুর্গাপুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে।
বিগত ৫ বছরে চন্দনাইশে ৪০ টির অধিক পুজা মন্ডপ বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে ১০ টি, ২০১৮ সালে বেড়েছে ৬টি। এ সকল পুজা মন্ডপে সুষ্ঠুভাবে পুজো দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ১’শ ২৩ টি পুজা মন্ডপের মধ্যে ৩৯ টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৮ টি গুরুত্বপূর্ণ, ৬৬ টি সাধারণ পুজা মন্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রশাসন। তাছাড়া ১’শ ২৩ টি পুজা মন্ডপের মধ্যে ৯১ টি মন্দিরে প্রতিমা পুজা, ৩২ টি ঘট পুজা দেয়া হয়েছে। চন্দনাইশ পৌরসভায় ১৪, কাঞ্চননগরে ৩, জোয়ারায় ৪, বরকলে ১১, বরমায় ২০, বৈলতলীতে ১২, হাশিমপুরে ৯, দোহাজারীতে ১৫, সাতবাড়িয়াতে ২ ও ধোপাছড়িতে ১টি মন্দিরে প্রতিমা সাজিয়ে পুজা দেয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পুজা মন্ডপে ১ জন অফিসারসহ ১ টি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্পটে মোবাইল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন থানা অফিসার কেশব চক্রবর্তী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*