চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্র“তির পর দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলো এবং অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমরা মনে করেছিলাম সিইসি নুরুর হুদার অধীনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশায় বিএনপি, ২০ দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী মহানগর বিএনপির সভাপতি কারাবন্দি ডা: শাহাদাত হোসেনও নিবাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে চুড়ান্ত মনোনয়ন পত্র পাওয়ার পর আমরা যখন প্রচারণায় নামি প্রতি পদে পদে আমরা বাধার সম্মুখীন হতে থাকি আজ ২৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের ধানের প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেনের প্রধান সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট বদরুল আনোয়ার এ কথা জানান। তিনি আরো জানান, শত প্রতিকূলতার মাঝেও রাতে পোষ্টার টাঙ্গালে সকালে এগুলো দেখা যায় না। এগুলো ছিড়ে ফেলে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। ১৩ ডিসেম্বর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনে বড় ধরনের প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করলে মাইকিং কমীকে মারধর করে। গত ১৩ ডিসেম্বর মাইকিং এর সময় পূর্ব বাকলিয়ায় যুবদল নেতা ইকবালকে ছুরিকাঘাত করে এবং মাইকের সরঞ্জাম লুট করে। এছাড়াও ২০ নং দেওয়ানবাজারে সমস্ত পোষ্টার ছিড়ে ফেলে ও জ¦ালিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। নগর যুবদল নেতা শাহেদ বক্স, সোনা মানিক, আমিনুল ইসলাম সাজু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল আওয়াল, শ্রমিকদল নেতা মহিউদ্দীন রণি ছাত্রদলের সাজু, মুন্নাসহ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তিনি জানান, ১৪ ডিসেম্বর বাকলিয়ায় মাইকিং করার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা চাক্তাই আমিন হাজী রোড়ে বিকাল ৫টায় মাইকিং ম্যান জামাল ও ইব্রাহীমকে ব্যাপক মারধর ও তাদের মোবাইল টাকা ও মাইকের সরঞ্জামাদি লুট করে। উভয় বিষয়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর আমরা অভিযোগ দাখিল করেছি। এছাড়া এদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মো: কাইয়ুম, মহসিন কলেজ ছাত্রদল কর্মী রায়হান ও ফরিদকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ ডিসেম্বর চকবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে ১৬নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও নগর বিএনপি সহ-সভাপতি সবুক্তিগীন মক্কীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে আমরা সিইসি বরাবর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনরায় অভিযোগ দাখিল করি।
এ্যাডভোকেট বদরুল আনোয়ার জানান, আপনারা অবগত আছেন আমাদের প্রার্থী কারাগারে রয়েছে তা সত্ত্বেও পুলিশ ১৬ ডিসেম্বর রাতে তার বাসায় তল্লাশীর নামে তান্ডব চালায় যা-প্রার্থীর মাতা শায়েস্তা খানম ১৭ ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদেরকে অবহিত করেন ও পরদিন এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়াও ১৭ ডিসেম্বর পূর্ব বাকলিয়ায় ১ হাজারের অধিক পোষ্টার ছিড়ে ফেলে ঐ এলাকার সন্ত্রাসীরা। মির্জাপুর এলাকা থেকে মো: ইসমাইল, দুলাল দাস, ১৭ নং ওয়ার্ড থেকে আবদুল কাদির, ১৬নং চকবাজার থেকে আবু আহমেদ, ১৮ নং থেকে জহিরুল ইসলাম, ২১নং থেকে আশরাফুজ্জামান স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসায় তল্লাশী ও গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়। ২২ ডিসেম্বর পূর্ব বাকলিয়া থেকে নগর বিএনপি নেতা হাশেম (সও:) কে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও নুরুউদ্দীন নুরু, ফারুক হোসেন বাবু, ইসহাক ও কুতুব উদ্দীনকে কাজীর দেউড়ি থেকে, শফিক আহমদ ও মহিউদ্দীনকে পূর্ব বাকলিয়া থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২৪ ডিসেম্বর পূর্ব বাকলিয়া বিএনপি নেতা বেলাল গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২৫ ডিসেম্বর ওয়ার্ড মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বে হাউজ ক্যাম্পেইন করার সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মারধর করে এতে ২০/২৫ জন মহিলা দল কর্মী আহত হয়। যাহা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে সরাসরি অবহিত করা হয়। এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন থেকে প্রায় ২শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*