চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৭ তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ২০, ২০১৬, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ১৭ তম সাধারণ সভা ২০ ডিসেম্বর সকালে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচিত পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অফিসিয়াল কাউন্সিলর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। চসিক এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ১৭তম সাধারণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও মোনাজাত করা হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর ৪০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব সফিক আহমদ এর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয় সভায় বিগত সাধারণ সভার পর থেকে ১৭তম সাধারণ সভা পর্যন্ত সময়ে নগরীতে মৃত্যুবরণকারী নাগরিকদের আত্মার মাগফেরাত এবং চট্টগ্রাম সহ দেশ ও জাতির উন্নতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সদ্য প্রেষনে যোগদানকারী প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও ম্যাজিষ্ট্রেটদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও বিগত ২০ নভেম্বর ২০১৬ খ্রি. অনুষ্ঠিত ১৬ তম সাধারন সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন, স্থায়ী কমিটি সমূহের কার্যবিবরনী আলোচনান্তে অনুমোদন করা হয়। সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি,সচিব এবং চট্টগ্রাম মেট্টো পলিটন পুলিশ এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সরবরাহের বিষয়ে কমিশনারদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি লেন বাই লেইন সহ নাগরিকদের ঘরে ঘরে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নে কাউন্সিলরদের নিকট থেকে প্রস্তাবনা আহবান করেন। তিনি বলেন, মেয়র এর নাগরিক সেবার স্বার্থে চট্টগ্রাম ওয়াসা সহযোগি হতে চায়। তিনি জানুয়ারী মাসের মধ্যে ৪১ টি ওয়ার্ড থেকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনা মেয়র এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা বরাবরে পেশ করার অনুরোধ জানান। সাধারন সভার শুরুতে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তানভীর আহমেদ চট্টগ্রাম নগরীকে মাদক মুক্ত নগরীতে পরিগণিত করার বিষয়ে তার অভিমত সভায় তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং মেয়র এর মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম করার পরিকল্পনা নির্বাচিত পরিষদ এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব। সভার সভাপতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামকে যে কোন মূল্যে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে পরিণত করা হবে। কারন মাদক শুধু যুব শক্তিকে ধ্বংস করছে না আগামী প্রজন্মকে বিপদগামী করছে। ভয়ংকর এই ফাঁদে যারা পা দিয়েছে তারা চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেছে। মাদকাশক্তির কারনে সমাজে অনাচার ও অনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রানের জন্য নগরীর ঘরে ঘরে মাদক বিরোধী জনসচেতনতা গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির ভোগান্তি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও স্বদিচ্ছার কারনে বিদেশী অর্থায়নে ৩ টি পানি প্রকল্পের কাজ চলছে তন্মধ্যে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। বাকী ২ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী নিরাপদ ও সুপেয় পানি পেতে কোন সমস্যা হবে না। মেয়র কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা সেবা দিতে আগ্রহী বলে সভাকে অবহিত করেন। মাদক নিয়ন্ত্রনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জিরো টলারেন্স-এ আছে বলে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়। সভায় ৪১ টি ওয়ার্ড থেকে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কাউন্সিলরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে চলতি অর্থ বছরে ২২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রদান সহ এলইডি লাইটিং এ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভার সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন সভায় তাঁর আগামী ৩ অর্থ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সভায় জাইকা চাহিত তথ্য বিবরণী প্রদান,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের ব্যয় হ্রাস করণের প্রস্তাব, মশার উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরী হতে এডাল্টিসাইড ক্রয় করা এবং মশার লাভা ধ্বংস করার জন্য এলডিও ক্রয় করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মাতৃসদন হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত একাদশ এর খেলা ধুলার মান বৃদ্ধি করা, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসষ্টপ ইত্যাদি স্থানগুলোর চূড়ান্ত ড্রাফট উপস্থাপন, পে-পার্কিং ব্যবস্থা চালু, বাগানে পানি দেয়ার জন্য ওয়াটার ভাউচার ক্রয় করা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্মিত এপার্টমেন্টগুলোর বিদ্যুৎ সংযোজন নিশ্চিত করা, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তথ্য পুলিশপ্রসাশনকে প্রদান করা, জঙ্গী প্রতিরোধ কমিটি সচল করা, অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা এবং বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদানের বাজেট অনুমোদন করা হয়। এছাড়াও বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে এনজিওদের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর সমন্বয় সাধন করা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*