চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের জরুরী বৈঠকে সিটি মেয়র

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ মে ২০১৭, বুধবার: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন ০৯ মে ২০১৭ খ্রি. মঙ্গলবার,  রাতে চসিক সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের সাথে জরুরী বৈঠক করেন। বৈঠকে মেয়র বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত বিষয়ে নানামুখি তথ্য উপাত্ত  জানতে চান। এ সময় মেয়র বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে চসিক এর সর্বস্তরের  কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় ইকুইভমেন্ট শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনিময়ে প্রত্যেককে  শতভাগ  নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।  তার কেন অন্যথা হতে পারবে না। মেয়র বলেন, রোড কাটিং বা বর্ষন জনিত কারনে অথবা অন্য যে কোন কারনে যখনই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হবে  তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অংশ সমূহ মেরামত করতে হবে। যেখানে নালার স্ল্যাব ক্ষতিগ্রস্থ দেখা যাবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে স্ল্যাব পুনঃস্থাপন করতে হবে। নগরীর ফুটপাত ও মিডআইল্যান্ড,ফ্লাইওভার,প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ এর বিউটিফিকেশন কাজ প্রতিনিয়ত পরিচালিত হবে। ছাদ বাগান পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। সৌন্দর্য বর্ধন ও যাত্রী ছাউনি নির্মান পরিকল্পনা যথা সময়ে সম্পাদন করতে হবে। নগরীর আলোবাতির ব্যবস্থাপনার অনিয়ম নাগরিক দূর্ভোগের কারন হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সড়কবাতি সচল রাখা এবং সুইচ অন-অফ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করার উপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, এ কাজে কোন ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এলইডি’র লাইটিং এর পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।  পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এ বিভাগে কর্মচারীর সংখ্যা দ্বিগুন করার পরও কাংখিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতির লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়ম দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন বিভাগের গাফিলতি ও কর্তব্যে অবহেলা শেষবারের মত সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দেয়া গেল। এরপর যেখানে অনিয়ম,অবহেলা ও গাফিলতি বা দূর্ণীতি দৃশ্যমান হবে সেখানেই কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে। মেয়র চসিক এর সহায় সম্পদের বাস্তবধর্মী তথ্যচিত্র মামলা মোকর্দ্দমার বাস্তবচিত্র উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টাইমফ্রেম নির্ধারন করে দেন। এ সময়ের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক তথ্য উপাত্ত উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদেরকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে বলে হুশিয়ার করে দেন। মেয়র বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন,অবকাঠামোগত উন্নয়ন সর্বোপরি ক্লিন ও গ্রিন সিটির কনসেপ্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন ধরনের দীর্ঘ সূত্রিতা,অনিয়ম ও গাফিলতি আর বরদাস্ত করা হবে না। তিনি সকলকে দেশপ্রেম ধারন করে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্পাদন করার পরামর্শ দেন। অন্যথায় পরিনাম ভোগ করার জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি আরো বলেন, স্ব স্ব পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি মাথায় রেখে সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড.মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান,প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ,  প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম চৌধুরী,  পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, মো. মাহফুজুল হক, মনিরুল হুদা, আবু ছালেহ, কামরুল ইসলাম, উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম সহ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: