চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে গণহত্যা দিবসের স্মৃতিচারণ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, সোমবার: চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের উদ্যোগে গণহত্যা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ আজ ২৫ মার্চ ২০১৯ ইং সোমবার সকাল ১১ টায় কলেজ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক নাহিদ সুলতানা নীলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ। তিনি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গণহত্যা দিবসের স্মৃতিচারণ করেন। আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ্য প্রফেসর স্বপন চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তাহমিনা আক্তার নুর, কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক এম. জোবাইরুল ইসলাম মেহেরী, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুবীর কান্তি দাশ ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রোকন উদ্দীন। অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগন, অধ্যাপক, প্রভাষক ও শিক্ষার্থীল স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন। শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চৌধুরী ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তাহমিনা আক্তার নুরসহ অন্যন্য অধ্যাপকবৃন্দ। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন- ১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তানি সেনারা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। বর্বর বাহিনী অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র বাঙালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ঐদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন বাহিনী ও শ্রেণী-পেশার অগণিত মানুষকে হত্যা করা হয়। ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বিশ্ব মানবতার ইতিহাসেও একটি কালো অধ্যায়। কুখ্যাত অপরেশনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার বড় বড় শহর দখল করে নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধী একমাসের ভেতর নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। বিষয়টি বুঝতে পেরে বীর বাঙালীরা প্রিয় দেশমাতৃকাকে হানাদার মুক্ত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। সেনা অভিযানের শুরুতেই পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী জাতির পিতাকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন এবং শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বাঙ্গালী জাতিরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে আমরা পেয়েছি ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এসব কিছুর পেছনে জাতির পিতার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্মের সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানেনা বলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে লিপ্ত হচ্ছে। তাদেরকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসে উদ্বুদ্ধ করা গেলে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*