চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিহত ৫৬

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বসে ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৩০ জন, বান্দরবানে ১৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছেন। সোমবার মধ্য রাতে থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে।
টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে বিভিন্ন স্থানে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় তিনজন ও কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে একজন পাহাড় ধসে মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে ৪ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। ধ্বসে পড়া মাটি সরাতে গিয়ে দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, করপোরাল আজিজ, সৈনিক শাহীন। এ ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন, এরা হচ্ছে সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম। তাদেরকে রাঙামাটির সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মানিকছড়ির একটি রাস্তা থেকে পাহাড় ধসে পড়া মাটি সরানোর কাজ করছিলেন ১৬ জনের একটি দল। এসময় হঠাৎ করে আবার পাহাড় ধসে পড়লে সেনবাহিনী সদস্যরা প্রায় ৩০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মেজর মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন তানভীর নিহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে রাঙামাটি সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ৫ সেনা সদস্যকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকালে রাঙামাটি মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এখনও তাদের উদ্ধার কাজ চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাঙামাটিতে সোমবার থেকে শুরি হওয়া বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
এদিকে, টানা বর্ষণে বান্দরবানের কালাঘাটায় তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে তিন শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। সোমবার রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় কালাঘাটার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কালাঘাটের কবরস্থানের পাশে পাহাড় ধ্বসে রেবা ত্রিপুরা (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জেলেপাড়ায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েন মা-মেয়ে। তারা হলেন, কামুরননাহার ও সুফিয়া। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল বাহিনী।
লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে এক পরিবারের তিনটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তারা হলো শুভ বড়ুয়া (৮), মিঠু বড়ুয়া (৬), লতা বড়ুয়া (৫)।
এছাড়া কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, মংকাউ খেয়াং (৫৫) মেম্রাউ খেয়াং (১৩) ও ক্যসা খিয়াং (৭)। এসময় চাইহ্লাউ (৩৫) ও সানু খেয়াং (১৮) নামে দুজন আহত হয়েছেন।
বান্দরবান সিভিল সার্জন বলেন, জেলার দুর্গম এলাকায় অনেক জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, চট্টগ্রামে চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একটি শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: