চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৯ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারের ঘোষণা দিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলনায়তনে চমেক ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩য় সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে অধিগ্রহণকৃত ৮০. ৮৩৬ একর ভূমি রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালের ৭২ একর জায়গা দখলে রয়েছে। অবশিষ্ট ৮.৮৩৬ একর জায়গা রাঘব বোয়ালগণের দখলে। যার ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার পরিসর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নানানভাবে বাধাগ্রসস্ত হচ্ছে। বেহাত হওয়া এই ভূমি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, যে কোনো মূল্যে চমেক এর জায়গা উদ্ধার করে এতদঞ্চলের একমাত্র সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার পরিধিকে বৃদ্ধি করা হবে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি ।
সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দীন আহমদ এর সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, বিএমএ’র সভাপতি ডা. মজিবুল হক খান, সাধারন সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. কলিম সরওয়ার, পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ আবুল কাশেম, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের পক্ষে এডিসি নর্থ, পিডব্লিউডি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উজির আলী, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় এর উপ পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, চমেক সেবা তত্ত্বাবধায়ক শিপ্রা চৌধুরী, প্রাইভেট প্রাকটিশনারস’র সভাপতি ডা. শেখ সফিউল আজম, চমেক আবাসিক সার্জন ডা. মঈন উদ্দিন মাহমুদ, নার্সিং এসোসিশনের সভাপতি রতন কুমার নাথ,২য় শ্রেণী প্রতিনিধি প্রণব কুমার হাওলাদার, চমেক হাসপাতালের ৩য় শ্রেনী মেডিকেল সরকারি কর্মচারি সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান চৌধুরী ও ৪র্থ শ্রেনী সরকারি কর্মচারী সমিতির সভাপতি রত্তন আলী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
মেয়র বলেন দরিদ্র, হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্তরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকে। তারা যেন দালালের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। মেয়র বলেন যে কোন মূল্যে এ হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি পুলিশ, আনসার, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত রাউন্ড দিয়ে দালাল নিয়ন্ত্রনে রাখার কথা উল্লেখ করেন। মেয়র হাসপাতালের সুশাসন ও শৃংখলা প্রতিষ্ঠা এবং রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজ প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে বলেন । সভায় মেডিকেল স্টাফ কোয়াটার গোয়াছি বাগান,লিচু বাগান ও মসজিদ কলোনীর কাঁচা ঘরের বিদ্যুৎ এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যেহেতু বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন হাসপাতালের মত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেয়া হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত লাইন ডোমিস্টিক সার্ভিসে দেয়া যুক্তিসঙ্গত নয় । এ ক্ষেত্রে তিনি পিডিবি থেকে ব্যক্তিপর্য্যায়ে মিটার কিনে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রাফিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন চমেকে দৈনিক ২৫-৩০ হাজার রোগী ও স্বজনের আগমণ ঘটে। সুষ্ঠ ট্রাফিক ব্যবস্থাপন না থাকায় ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। এ ট্রাফিক জ্যাম উত্তরনে গাড়ী পার্কিং, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সময় নির্ধারণ, দর্শনার্থী প্রবেশের সময় নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের করতে হবে। সভায় মেয়র চসিক এর উদ্যোগে হাসপাতালের ৩টি গেইট এর সামনের রাস্তা সংস্কার সহ হাসপাতালের সকল টয়লেট সমূহ আধুনিকায়নের ঘোষনা দেন। মেয়র বলেন এ মেডিকেল কলেজে অনেক সমস্যা রয়েছে যা প্রতিনিয়ত শেয়ার করলে তাৎক্ষণিক সমাধান হয়।
চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, এ হাসপাতালের সেবার পরিধি বৃদ্ধির জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এ জায়গা সমূহ চিহ্নিত করণের লক্ষে তিনি সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চমেক কম্পাউন্ডকে ধুমপানমুক্ত এলাকা ঘোষনা করারও দাবী জানান। বিএমএ’র সভাপতি ডা. মজিবুল হক খান চসিক এর মাধ্যমে সীমানা নির্ধারনের জন্য সার্ভের উপর গুরুত্বারোপ করেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. কলিম সরওয়ার চমেককে ধুমপান মুক্ত করতে মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডে পান-সিগেরেট বিক্রয়ের দোকান ও টং দোকান উচ্ছেদ এর দাবী জানান। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় কেন্টিন সমুহের সংখ্যা ও অবস্থান, কলবর সৌন্দর্য্য যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, ওয়াসা থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করনসহ বিবিধ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: