চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারক লিপি প্রদান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, সোমবার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী চট্টগ্রাম-৯ আসনের একজন প্রার্থীর পক্ষে মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রার্থী, বিএনপি নেতাকর্মী ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে আজ ৩ ডিসেম্বর সোমবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার আবদুল মান্নানকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীমকোর্ট বার সদস্য এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, এডভোকেট আবদুস সাত্তার সারোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, সহ আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন খান, সদস্য ইউসুফ সিকদার। এসময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার আবদুল মান্নান বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেন। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে প্রধাণ নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর আইন পরিপন্থী একটি বক্তব্যের বিষয়ে আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামীলীগ ও সরকার দলীয় ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য, আচরণ একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এই দাবী নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রমেই তা সত্য হিসেবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী ও প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে আপনার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গত দুই একদিন আগে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। তিনি তার বক্তব্যে দম্ভের সংগে বলেন, নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাতের জামিন হবে না। নির্বাচন পর্যন্ত তাকে জেলেই থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ৯ তারিখের পর বিএনপির কোন নেতাকর্মী প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারবে না। তাদের বাড়ী ঘরে থাকতে দেয়া হবে না। নির্বাচন হবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী মতো। তার এইসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
তার এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিপন্থী। তাছাড়া এই বক্তব্য আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তার এই বক্তব্যের পর আমরা সবাই বলতে চাই বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে যে শংকা প্রকাশ করে আসছেন তা সত্য প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। হাসনীর এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়। এই বক্তব্যের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা বাহিনী সর্বোপরি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম নগর বিএনপির পক্ষ থেকে আবারো আশংকা প্রকাশ করছি যে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আমরা জরুরী ভিত্তিতে হাসনীর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী/ বাকলিয়া সংসদীয় আসনে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মুক্তিসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্করসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধকারী চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর বক্তব্য সম্বলিত একটি সিডি আপনাকে প্রদান করছি। আপনি তার বক্তব্য শ্রবণপূর্বক যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আপনার দায়িত্ব এলাকা চট্টগ্রামে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবেন। এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: