চট্টগ্রাম বেবী টেক্সী মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন

Auto Cng-14-12-2014
চট্টগ্রাম (সিএনজি) বেবী টেক্সী মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম মহানগরী অটোরিক্সা বেবীটেক্সী মালিক সমিতি এবং সাধারণ মালিক ও চালকদের সমন্বয়ে ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন আজ ১৪ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে সিকদার। লিখিত বক্তব্যে এস কে সিকদার জানান সারাদেশে সরকার ঘোষিত সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের মেয়াদ কাল দুই ধাপে বৃদ্ধি করে ১১ বছর নির্ধারণ করেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গাড়ী গুলি পর্যায়ক্রমে রোড পারমিট বন্ধ করে তার সাথে ১৩-০৩-২০১৩ ইং তারিখ সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী মহোদয় মৌখিকভাবে ঘোষণা দেন ঢাকার সাথে মিল রেখে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায় ১৩০০০ রেজি.প্রাপ্ত সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলরত আছে তার সাথে প্রাইভেট নম্বর নিয়ে আরো ১২০০ সিএনজি অটোরিক্সা নগরীতে চলছে। এই অবস্থায় আরো ৪০০০ নতুন সিএনজি অটোরিক্সা দিলে নগরীতে যানজট, গ্যাস সংকট ও ড্রাইভার সংকটের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি পূর্বে রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ীর ইকোনমিক লাইফের নামে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দাবী গুলো হল মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া খন্ডকালীন আদেশের প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটর্নী জেনারেল অফিসের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এফআইআর নামে টেক্সীতে স্টীকার লাগিয়ে চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা ও টমটম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর.পি শর্ত ভঙ্গ করে মেট্রোতে জেলা এলাকার সিএনজি টেক্সী চলাচল বন্ধ করতে হবে। সিএনজি টেক্সী মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি যেহেতু প্রক্রিয়াধীন সেহেতু এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ক্ষেত্রে পুলিশী হয়রানী বন্ধ করতে হবে। সরকারী উদ্যোগে ড্রাইভার ভাইদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহজ শর্তে (সরকারী ফি ব্যতীত) অন্য কোন খরচ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। শহরের বিভিন্ন এলাকার টেক্সী পার্কিং নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত নো পার্কিং মামলা দেয়া বন্ধ করতে হবে। যেখানে সেখানে কাগজ পত্র যাচাইয়ের নামে ট্রাফিক হয়রানী বন্ধ করতে হবে। চট্টগ্রাম বি.আর.টি.কে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালালমুক্ত করে সাধারণ মালিকদের নির্বিশেষে কাগজ পত্র নবায়নের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের দাবীগুলোর ব্যাপারে সাংবাদিক ভাইদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবব দেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি হায়দার আজম চৌধুরী এবং আমাদের দাবীগুলোর ব্যাপারে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনরোধ জানান। আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবীগুলো না মানলে আগামী ২৮ ডিসেম্বর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি দেবেন বলে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আমাদের নিয়মতান্ত্রিক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ইউনিয়নের হারুনের নেতৃত্বে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে ও সম্মেলন শেষে বেরিয়ে আসলে নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালায়। এই ব্যাপারে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি বাস মালিক সমিতির মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, তরুন কান্তি দাশ, আবদুল মন্নান, টিটু চৌধুরী, স্বপন সিংহ, তৌহিদুল আনোয়ার কামরুল, ইঞ্জিনিয়ার তাজুল ইসলাম, সোলায়মান তালুকদার, দিলীপ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, জুলফিকার আলী, কাজী জামাল উদ্দিন, ফিরোজ আহমদ, আবদুল মতিন, জাহাঙ্গির, শাহজাহান, শ্রমিক নেতা মোতালেব হোসেন ও মোহ্ম্মাদ খোকন প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: