চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের আশপাশে ১২টি নৌ-দুর্ঘটনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৩ জানুয়ারী ২০১৭, মঙ্গলবার: কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেলের আশপাশে গত বছরে (২০১৬) ১২টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে চারটি দুর্ঘটনায় জাহাজ ডুবে যায়। বাকি ৮টি সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষত্রিগ্রস্থ হয়েছে ১৬টি জাহাজ।
এসব দুর্ঘটনায় গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। দুর্ঘটনা রোধে কমিটি দায়ীদের শনাক্ত এবং কারণ খুঁজে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এসব সুপারিশ আমলে নিচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিটির সুপারিশ আমলে না নেওয়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকির অভাব এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চালকদের অতিরিক্ত গতি, ওভারটেক করার মনোভাব, অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই, অনিয়মিত মালামাল বোঝাই, নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকবল না রাখার কারণে জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজে প্রশিক্ষিত নাবিক না থাকার কারণেই মূলত নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া নাবিকদের নেভিগেশন ও সেইফটি বিষয়ে ধারণা না থাকাও দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ।
তারা বলছেন, জাহাজ মালিকদের অতি মুনাফার মনোভাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারির অভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। জাহাজে প্রশিক্ষিত এবং সার্টিফিকেটধারী নাবিক নিশ্চিত করতে পারলেই নৌ-দুর্ঘটনা কমবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের রিভার মুরিং (আরএম) এলাকায় এমটি শবনম-৪ এর সঙ্গে এমটি রাশেদ এন্টারপ্রাইজ জাহাজের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় নৌ-বাণিজ্য দফতরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার শেখ জালাল উদ্দিন গাজিকে আহ্বায়ক এবং নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক জসিম উদ্দিন পাটোয়ারিকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই বছরের ৭ মার্চ বহির্নোঙ্গরে দুটি জাহাজের মাঝখানে পড়ে খান এন্ড সন্স-১ নামে একটি লাইটারেজ জাহাজ ডুবে যায়। ঠিক এক মাস পরে ৭ এপ্রিল কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাহাজে পানি ঢুকে এমভি আল বখতিয়ার-১ নামে আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর দিন এমভি বাংলার শিখার সঙ্গে এমভি গাগাসান জোহার নামে আরেকটি জাহাজের সংঘর্ষ হয় ২০১৬ সালের ২১মে। ১৭জুন ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমভি মেরাতুস মিদান-৫ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় এমভি আল আবরার, এমভি হিযবুল ওহাব, এমভি আল ইনসান, এমভি বর্ষণ—৩, এসএস ডেলপিনাসকে আঘাত করে। একই মাসের ৩০ জুন এমটি পারটেক্স-৩ এর সঙ্গে ওটি বেঙ্গল স্পিড-১ এর সংঘর্ষ হয়।
ওটি টিআর শাহ আমানতের সঙ্গে এমভি সাইফুর রহমানের সংঘর্ষ হয় ৭ জুলাই। দুইদিন পর ৯ জুলাই সংঘর্ষ হয় এমটি আরজুর সঙ্গে এমটি মার্কেন্টাইল-১৯ এর। ১১ নভেম্বর সংঘর্ষ হয় এমভি সামিরের সঙ্গে এমভি গাজির। ১৪ ডিসেম্বর একই দিনে ডুবে যায় এমভি ল্যাবস-১ ও এমভি মজনু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*