চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। chittagong Bonderএ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের বৈঠকে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটি সূত্র জানায়, বন্দর চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি জাহাজ ক্রয়ে ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। যা তার ভায়রা ভাই জিয়াউল হক চিশতির মাধ্যমে করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বন্দর চেয়ারম্যান সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ১৮-২০ বছরের পুরোনো ২০ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি জাহাজ ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় দেখিয়েছেন। এমনকি বিনা টেন্ডারে তার ভায়রা ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে জাহাজের ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ করেছেন। জাহাজটি বিদেশ থেকে আনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা দুবাই ও চীন সফর করেন। তাদের বিদেশ সফরের কোটি টাকা ব্যয়ও চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব খাত থেকে দেখানো হয়েছে। এছাড়া বন্দরের ১০ টন মোবাইল ক্রেন কেনায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ও স্ক্যানার কেনায় প্রায় ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয় কমিটির বৈঠকে। এছাড়া বৈঠকে নিজাম উদ্দিন বর্তমানে জামায়াত-বিএনপির সমর্থনে কাজ করছেন Cittaবলেও অভিযোগ তোলা হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি নিজাম উদ্দিন লন্ডন ভ্রমণে গিয়ে জামায়াত ইসলামের লন্ডন শাখার নেতা মাহবুব আলম ও আফজাল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে গোলাম আযমের মৃত্যুর পর গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন তিনি। তাদের সঙ্গে তিনি গোপন মিটিংও করেন। জানাজায় অংশ নেয়া এবং মিটিং করার বিষয়টির প্রমাণ ছবিতেই পেয়েছেন কমিটি। কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, আব্দুল হাই, নুরুল ইসলাম সুজন, এম আব্দুল লতিফ, আনোয়ারুল আজীম (আনার) এবং অ্যাডভোকেট মমতা বেগম। বৈঠকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করার সুপারিশ করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বন্দর চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন কমিটি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কমিটির সদস্য আনোয়ারুল আজীম (আনার) অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠা সত্যিই দুঃখজনক। বন্দরকে আমরা সব ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতিমুক্ত করার কথা বলেছি।

সূত্র : ঢাকা টাইমস

Leave a Reply

%d bloggers like this: